নজরবন্দি ব্যুরোঃ সঙ্গীর মানসিক অবস্থার খোঁজ রাখেন? মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ- এই সব বিষয়গুলোকে অনেকেই তুচ্ছ বলে মনে করেন। কিন্তু ‘মানসিক স্বাস্থ্য’ (Mental Health) খেয়াল রাখাও জরুরি। শরীরের বিষাক্ত রোগও দ্রুত সেরে উঠতে পারে যদি আপনি মন থেকে সুস্থ বোধ করেন। আর সামান্য জ্বরও মারণ রোগ ডেকে আনতে পারে যদি আপনি মানসিক ভাবে ‘স্ট্রং’ না হন।
আরও পড়ুনঃ অস্কারের মেমোরিয়মে শ্রদ্ধা জানানো হল না লতাকে! গর্জে উঠল নেট দুনিয়া


শারীরিক স্বাস্থ্যের (Physical Fitness) ওপর মানসিক স্বাস্থ্যও ব্যাপক ভাবে প্রভাব ফেলে। এর পাশাপাশি মানসিক চাপ প্রভাব ফেলে আপনার যৌন স্বাস্থ্যের (Sexual Health) ওপরও। বিষণ্ণতার (Depression) কারণে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ক্ষতি হতে পারে যৌন স্বাস্থ্যের। কমে যেতে পারে যৌন মিলনে লিপ্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, কমে যেতে পারে লিবিডো (Libido)। এমনকি তৈরি হয়ে পারে আনর্গ্যাজমিয়া। ভাবছেন এমনটাও হয় নাকি? চিকিৎসকরা বলছেন, আলবাত হয়।

ডিপ্রেশন বিভিন্ন মানুষের মধ্যে বিভিন্নভাবে কাজ করে। তবে মোদ্দা কথা হল এটি মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। আর এখান থেকে তৈরি হয় সঙ্গীর থেকে দূরত্ব। সহজেই যৌন মিলনে লিপ্ত হতে চান না অনেকেই। অনেক ক্ষেত্রে তৈরি হয় সম্পর্কের ভাঙন।
নেতিবাচক ভাবনাচিন্তা প্রভাব ফেলে লিবিডোর ওপর। কমে যায় লিবিডো। অ্যানজাইটিও যৌনতা প্রতি ইচ্ছাকে কমিয়ে দেয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যৌনতা সম্পর্কিত উদ্বেগও একটা সমস্যা তৈরি করছে। এতে যে শুধু আপনার শরীরে খারাপ প্রভাব পড়ছে তা নয়, এর একটা মানসিক প্রভাব পড়ছে আপনার সঙ্গীর মনেও।


ক্লান্তি এই ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি থেকে যৌনতার প্রতি অনীহা তৈরি হয়। এর পাশাপাশি ছেলেদের লিবিডো কমে যায় এবং ইরেকশনের সমস্যা দেখা দেয়। একই সঙ্গে, মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি আনর্গ্যাজমিয়ার সমস্যা তৈরি করে।
অ্যান্টি-ডিপ্রেশন, অ্যান্টি-অ্যানজাইটির মত ওষুধগুলিও শারীরিক ভাবে প্রভাব ফেলে যৌন স্বাস্থ্যের ওপর। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, এই ওষুধগুলির প্রভাব যৌন স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে। তাই সময় থাকতে হাইপোথাইরয়েডিজম এবং কম টেস্টোস্টেরনের বিষয়গুলি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া দরকার।
তবে এমন নয় যে যৌন স্বাস্থ্য কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এই সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব নয়। কিন্তু ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে সঙ্গীকে। আপনি যদি সঙ্গী হন তাহলে আপনার প্রিয় মানুষটির প্রতি যত্নবয়ান হোন। আপনার নন-জাজমেন্টাল মনোভাব আপনার সঙ্গীকে ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি সমাধান হবে যৌনতা সম্পর্কিত সমস্যাগুলিও।
সঙ্গীর মানসিক অবস্থার খোঁজ রাখেন? অজান্তেই কোন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন জানুন

ডিপ্রেশন কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কাছের মানুষের মেন্টাল সাপোর্ট খুব প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই কথা বলেই আপনি ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে প্রয়োজনও পড়ে না কোনও অ্যান্টি-ডিপ্রেশন ওষুধের। অ্যানজাইটির হাত থেকে বাঁচতে মেডিটেশনই হল সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সুষম আহার, নিয়মিত যোগব্যায়াম, সামাজিক যোগাযোগই উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। যখন মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে, ধীরে ধীরে যৌন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যাগুলোও কমে যাবে। এই ক্ষেত্রে আপনি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকেরও সাহায্য নিতে পারেন।







