ডিএ কবে পাব? আন্দোলন জোরদার করে রাজ্যজুড়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করল সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) ২৫ শতাংশ দ্রুত মেটানোর কথা বলা হলেও রাজ্য সরকারের তরফে এখনও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ সংগঠনের। তাই ১৩ মার্চ রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে ‘বন্ধ মোবারক’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দিন কর্মীরা অফিসে উপস্থিত থাকলেও কোনও সরকারি কাজ করবেন না বলে জানানো হয়েছে।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতৃত্বের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে কোনও স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। তাই কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।


প্রসঙ্গত, গত ৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অবিলম্বে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে।
আদালত একই সঙ্গে বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ কীভাবে এবং কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, তার একটি রূপরেখা তৈরির নির্দেশও দেয়। ২০০৯ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যে ডিএ বকেয়া রয়েছে, এই রায় মূলত সেই সময়ের জন্যই প্রযোজ্য।
এছাড়াও আদালত এই রায় বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রার নেতৃত্বে ওই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তরলোক সিংহ চৌহান, ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি গৌতম ভাদুড়ি এবং কেন্দ্রের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG) দফতরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।


এই কমিটির মূল দায়িত্ব তিনটি—
১) মোট কত টাকা বকেয়া রয়েছে তা নির্ধারণ করা
২) কত দিনের মধ্যে ও কত কিস্তিতে তা দেওয়া হবে তা স্থির করা
৩) নির্দিষ্ট সময় অন্তর টাকা দেওয়া হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা সন্দীপ ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা জানতে পেরেছেন রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারে। আদালত ৬ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সন্দীপ ঘোষ বলেন, “আমরা ৬ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু সরকারের তরফে কোনও স্পষ্ট পদক্ষেপ না হওয়ায় ১৩ মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য আমরা আন্দোলনের পথেই থাকব।”
অন্যদিকে প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, সরকারি কর্মচারীদের এই কর্মসূচির জবাবে রাজ্য সরকার কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতেও ধর্মঘট বা বন্ধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
তাই ১৩ মার্চের ‘বন্ধ মোবারক’ কর্মসূচি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।







