নজরবন্দি ব্যুরোঃ ইউনিভার্সিটিতে টুম্পা নাচ! সরস্বতী পুজোর আনন্দে মাততে তারস্বরে চলেছিল টুম্পা সোনা গান। মুহুর্তে ভাইরাল হয়েছিল সেই গানের তালে ছাত্র ছাত্রীদের উদ্যাম নাচের ভিডিও। সেই নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল বিস্তর। প্রশ্ন উঠেছিল সংস্কৃতি নিয়ে। উপাচার্য থেকে গানের লেখক, মোটমাট দু’দলে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। আজ সেই বিতর্কের জেরেই দু’বছরের জন্য ৫ পড়ুয়াকে সাসপেন্ড করা হল। আগামী ২ বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারবে না তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ ভুল ঠিকানায় সমন, অভিষেকের ‘অমিত’ মামলা সরল অন্য আদালতে!
কোভিড পরবর্তী সরস্বতী পুজো, এবং তাতে আনন্দের জেরে মাততেই একাধিক গানের সঙ্গে চলেছিল টুম্পা সোনাও। আর সেই গানেই উদ্যাম নেচেছিল একদল শিক্ষার্থী। এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরই প্রশ্ন উঠেছিল কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি। প্রাক্তনেরাও আওয়াজ তুলেছিলেন, এ কোন অঙ্গন, যেখানে আদর্শের পাঠ নিয়েছিলেন তাঁরা সেখানে টুম্পা নাচ। ঘটনার পরেই উপাচার্য জানিয়েছিলেন তাঁর অনুমতি ছাড়াই কয়েকজন মিলে নিজেদের মত করে করেছে এই পুজো।
ইউনিভার্সিটিতে টুম্পা নাচ! তার পর থেকে বিতর্ক কম হয়নি। গানটি সংস্কৃতির পক্ষপাতী বলে একদল পড়ুয়া খাড়া করেছিল যুক্তি, বলেছিল এতদিন পরে সকলের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দের বহিঃপ্রকাশ নাকি এই নাচ। সপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন গানের লেখক থেকে একদল সঙ্গীত শিল্পীও। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়য় কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, যেখানে কোভিডের কারণে বন্ধ ক্লাস, সেখানে বিনা অনুমতিতে পুজো, এবং তাতে এমন চটুল গান রীতিমত কালিমা লিপ্ত করেছে এত বছরের ঐতিহ্যে।
সেই মতই বিশ্ববিদ্যালয়য় কর্তৃপক্ষ গঠন করেছিলেন উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি। কয়েকদিন ধরে সব বিষয় যাচাই করেই কমিটি নিজেদের রায় জানালো আজ। আজ, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে অনুমতি ছাড়া এই পুজো করিয়েছিলেন যে তিনজন যুবক, আগামী ২ বছর পর্যন্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবেনা তাঁরা।
সপেন্ড হওয়া ওই পাঁচজন মণিশংকর মণ্ডল, রাজা মেহেদি , দেবর্ষি রায়, তীর্থপ্রতীম সাহা এবং রনি ঘোষ। তবে পাল্টা তারাও মানহানির অভিযোগে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে বলে খবর। মণিশংকর মণ্ডল জানিয়েছে, “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুজো বন্ধ করে দিতে চাইছিলেন কেউ কেউ। আসলে পুজো বন্ধ করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির হাতে হাতিয়ার তুলে দিতে চাইছেন তাঁরা।”



