নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভুল ঠিকানায় সমন, যার ফলে অমিত শাহের প্রতিনিধি আদালতে হাজিরা দিলেও মামলা সরল অন্য কোর্টে। এর আগেও একাধিক বার বিজেপির একাধিক নেতৃত্ব কটাক্ষ করেছেন অভিষেককে। আর ৩৬ ঘন্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়া থেকে আদালতের রায়, প্রতিবারই সেই জল গড়িয়েছে আদালতের দোরগড়া পর্যন্ত। এবার সেই তালিকায় নাম যোগ হলো দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নামখানার সভা মঞ্চ থেকে ‘ভাইপো’ অভিষেককে একাধিক ভাবে আক্রমণ করেন শাহ্। এর আগেও অভিষেক কে দুর্নীতির দায়ে তোপ দেগেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই মত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক।
আরও পড়ুনঃ কোভিড বিধির অভ্যাস ফেরাতে হাতে ১৫ দিন, নইলে ফের জারি হবে লকডাউন!
অভিষেক স্পষ্ট জানিয়েছিলেন জনগনের দ্বারা নির্বাচিত একজন সাংসদের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া কোন ভিত্তিহীন অভিযোগ করতে পারেনা কেউই। আদালত নির্দেশ পাঠিয়েছিল অমিত শাহ্ কে। ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় অমিত শাহ নিজে অথবা তাঁর কোনও প্রতিনিধিকে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেইমতো আজ আদালতে তাঁর প্রতিনিধি আজ আদালতে হাজিরাও দেন। কিন্তু ,গল্প ঘুরেছে অন্য জায়গায়, শাহকে পাঠানো সমনে ঠিকানায় নাকি ভুল আছে। আর তাই পিছিয়ে দেওয়া হলমামলার শুনানি। তাঁর সঙ্গে মামলাটি স্থানান্তরিত করা হয়েছে মেট্রোপলিটন আদালতে।
প্রসঙ্গত ২০১৮ তে মেয়ো রোডের “যুব স্বভিমান সামাবেশ র্যালি” থেকে শাহ্ তোপ দেগেছিলেন ‘ভাইপো’ অভিষেকের বিরুদ্ধে। ভরা সভামঞ্চে তিনি বলেছিলেন বাংলায় চলা নারদা, সারদা, রোজভ্যালি সবই চলে ভাইপোর অঙ্গুলি হেলনে। শুধু তাই নয় পরোক্ষ ভাবে মমতা এবং অভিষেকের নামে অর্থ তছরুপের দায় এনেছিলেন তিনি। কেন্দ্র থেকে মোদীর প্রেরিত অর্থ গ্রাম বাংলায় পৌঁছায় কিনা জানতে চেয়ে নিজেই বলেছিলন সবই নাকি চলে যায় ভাইপোর সিন্ডিকেডে।
শাহ্ অভিযোগ করেছিলেন ৩,৫৯,০০০ কোটি টাকার তছরুপেরও। অভিষেকের আইনজীবী জানান, শাহের সেই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছিল রাজ্যে এবং তাঁর বাইরেও। একজন সাংসদের ভাবমুর্তি নষ্ট করার অধিকার নেই কারোর। সেই কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আভিষেক। উল্লেখ্য, বিজেপি-র রাজ্য দফতর ৬ মুরলীধর সেন লেনের দফতরে ওই শমন আসে।
আজ সোমবার, সমন অনুযায়ী সোমবার বিধাননগরের এমপি-এমএলএ আদালতে হাজিরা দেন অমিতের আইনজীবী ব্রিজেশ ঝা। উপস্থিত ছিলেন অভিষেকের আইনজীবীও। ভুল ঠিকানায় সমন, তাই শাহর আইনজীবী ব্রিজেশ ঝা’র দাবি, অমিত শাহকে যে ঠিকানায় সমন পাঠানো হয়েছে, সেটি তাঁর সরকারি ঠিকানাই নয়। সেটি বিজেপির সদর দপ্তরের ঠিকানা। সঠিকভাবে ঠিকানা দিয়ে ফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সমন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং এমপি-এমএলএ আদালত থেকে মামলাটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ব্যাঙ্কশাল মেট্রোপলিটন আদালতে। আগামী ২২ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে মেট্রোপলিটন কোর্টে।



