মিটেছে ভোটযুদ্ধ পর্ব। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়েই শুদ্ধিকরণের পথে হাঁটতে চলেছে সিপিআইএম। মূলত, এইবারের নির্বাচনে সেই সকল সদস্য, যাঁরা সংগঠনের দ্বায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করেননি। আরও ভাল ভাবে বলতে গেলে, নির্বাচনী যুদ্ধে সিপিএমের পার্টি সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে সংশয় থাকায় এই সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। এদিকে গোটা বিষয় পর্যালোচনা করে আলিমুদ্দিনের তরফে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী ১ মাসের মধ্যে জেলা কমিটিগুলিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে হবে।
আরও পড়ুন: বেতন বাড়ল সিভিক ভলান্টিয়ারদের, বড় ঘোষণা নবান্নের
আলিমুদ্দিনের প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ এর ভোটে যাঁরা যাঁরা সঠিক ভূমিকা পালন করেনি, তিনি যেই স্তরেরই সদস্য হোন না কেন, জেলা কমিটি এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে সেই সদস্যদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, যাঁরা এলাকা পরিদর্শনে যান না, জনগনের সঙ্গে জনসংযোগ করেন না, শুধুমাত্র পার্টি অফিসে বসে নেতাগিরি করেন তাঁদের উদ্দেশ্যে নির্দেশ, প্রত্যেক সদস্যদের জনগণের অভ্যন্তরে পৌঁছতে হবে। জনসাধারণের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়াতে হবে। নিজেদের পার্টি অফিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষদের কথা শুনতে হবে, বুঝতে হবে। নিজেকে উজাড় করে দিতে হবে সধারনের জন্য, তাহলেই মানুষের আরও কাছে পৌঁছনো যাবে।

প্রসঙ্গত, একের পরও এক নির্বাচনী সংগ্রামে ব্যর্থ সিপিআইএম। বলা যায়, ধীরে ধীরে হতাশা গ্রাস করেছে এই প্রবীণ দলকে। এইবারের লোকসভা নির্বচনে বড় মার্জিনে হেরে যাওয়া যেন আরও বেশি করে নাড়িয়ে দিয়েছে আলিমুদ্দিনকে। মূলত, গোঁড়ায় গলদ খুঁজতেই আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন আলিমুদ্দিন। জানিয়ে রাখা ভাল, শুধুমাত্র ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের উপর ভিত্তি করে নয়, বিধানসভার ফলও বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
লোকসভা নির্বাচন থেকে শিক্ষা, শুদ্ধিকরণের পথে CPIM!

সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনেও ভরাডুবি হয়েছে বামেদের। মোট ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৮ জনেরই জামানত জব্দ হয়েছে। কেবল মুখরক্ষা করতে পেরেছেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। একজন লড়েন, মুর্শিদাবাদ থেকে। অন্যজন, দমদমে। নির্বাচনের পর থেকেই ফলাফলের ময়নাতদন্ত জারি রয়েছে আলিমুদ্দিনে। সামনে বাঁকুড়ায় বর্ধিত অধিবেহন ডেকেছে সিপিআইএম।



