ক্রমেই কমছে কেরলে বামেদের ভোট। তিন বছরে প্রায় ১০ শতাংশ ভোট কমেছে বামেদের। যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একে গোপালন ভবন। শুধু তাই নয় দলের অন্দরে আর একটিও বড় উদ্বেগ ক্রমেই মাথাচাড়া দিচ্ছে। তা হল, একের পর এক মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা।
সম্প্রতি একটি ব্যাংক তহবিল তছরুপের মামলায় ইডির তরফে প্রায় ৭৩ লক্ষ্য টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুধু তাই এর আগেই কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের মেয়ে বীণা বিজয়নের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি। এছাড়াও আরও বেশ কিছু মামলায় কেরলের শাসক দলের বিরুদ্ধে ধরপাকড় চালাচ্ছে ইডি। আর ইডি-এর এই সক্রিয়তায় উদ্বেগে রেখেছে শাসক দলকে।



এনিয়ে সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্যের কথায় কেরলে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছে ইডি। যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর ইডি কে সম্পূর্ণ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি।
তবে সিপিআইএমের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব মনে করছেন কেরলে ভোটে জিতে ২০২১ সালে পর পর দু’বার সিপিআইএম সরকার গঠন করলেও। তার পর একের পর এক ঘটনায় জড়িয়ে পরে পিনারাই বিজয়নের সরকার। যে কারণেই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ভোট কমেছে কেরলে, এবং একই সঙ্গে বিজেপিও মাথা তুলেছে।


তবে পিনারাই-এর কন্যা বীণার বিরুদ্ধে ইডি যে তদন্ত করছে তার সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই বলেই দাবি সিপিএমের। তবে কেরলে ইডির সক্রিয়তায় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বাংলার সিপিআইএম নেতৃত্বের।
বামেদের সাদা কাপড়ে দুর্নীতির ‘লাল’ দাগ, সমানতালে কমছে ভোট, এবার কেরল ‘হাতছাড়া’ CPIM-এর?

রাজ্য সিপিআইএমের প্রথম সারির এক সদস্যের কথায়, কেরলে সরকার থাকা সত্ত্বেও ইডির দাপটে যদি নাস্তানাবুদ হতে হয় পিনারাই সরকারকে তাহলে এ রাজ্যে তাদের আরও সংকুচিত হয়ে পড়তে হবে।
বাংলার আর এক সিপিআইএম নেতার কথায়, কেরলের নেতাদের বিলাস বহুল জীবনযাপন রয়েছে এটাই কেরলের বাস্তব চিত্র। কিন্তু তার সাথে দুর্নীতি যুক্ত হয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তবে যাই হোক এর ফলে অবশ্যই কেরলের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে একটা প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, বিগত ৪৭ বছরে দেশে এখনও বামেদের সরকার শূন্যে পৌঁছয়নি। জাগ প্রদীপ জ্বলার মত কেরলে বাম সরকারের একটি বাতি মিট মিট করে জ্বলছে। এছাড়া ত্রিপুরা আর বাংলায় ক্ষমতায় ফেরার কোনো আশায় দেখছেন না সিপিআইএম নেতাদের অনেকেই। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামী ২০২৬-এ কেরলে সরকার পরিবর্তন হলে দেশে রাজ্যের ক্ষমতা দখলের নিরীখে কার্যত শূন্যে পৌঁছবে সিপিআইএম।







