রাজ্য সিপিএমে একের পর এক মহিলাঘটিত অভিযোগে অস্বস্তি যেন পিছু ছাড়ছে না। শুক্রবার আরও এক বড় সিদ্ধান্ত নিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। পার্টিসদস্যার করা অভিযোগের তদন্ত শেষে রাজ্য কমিটির তরুণ সদস্য ইন্দ্রজিৎ ঘোষকে বহিষ্কার করল সিপিএম। দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকের শেষ দিনেই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
সূত্রের খবর, রাজ্য সম্পাদক বিশদ ব্যাখ্যায় না গিয়ে স্পষ্ট জানান—দলের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (আইসিসি)-র সুপারিশের ভিত্তিতেই এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেহেতু ইন্দ্রজিৎ ঘোষ রাজ্য কমিটির সদস্য ছিলেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দিল্লিতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় আইসিসির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্তেই সিলমোহর পড়ে।


বৈঠকেই ঘোষণা, উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত নেতা
শুক্রবার যখন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়, তখন রাজ্য কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত নেতাও। সিদ্ধান্তের পর প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি তিনি। তবে সূত্রের খবর, অনুযোগের সুরে তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য যথাযথ ভাবে শোনা হয়নি। অভিযোগ কমিটি মাত্র একবারই তাঁকে ডেকে কথা বলেছিল বলেও তাঁর দাবি। রাজ্য কমিটিতে তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নেতারাও বিষয়টি নিয়ে বিশেষ সরব হননি বলে খবর।
কী অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে
বেলঘরিয়ার এক তরুণী সিপিএম কর্মীর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে সহবাস করেছিলেন ইন্দ্রজিৎ ঘোষ। অভিযোগকারিণীর মা ও বাবাও সিপিএমের সদস্য। তদন্তে নেমে অভিযোগ কমিটি ‘কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে’ পেয়েছে বলেই সূত্রের দাবি। মূল অভিযোগের পাশাপাশি আরও একাধিক তরুণী রাজ্য কমিটির এই সদস্যের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলেও খবর।
ইন্দ্রজিৎ ঘোষ ভাঙড়ের ভূমিপুত্র হলেও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল কলকাতা। এসএফআই ও ডিওয়াইএফআইয়ের পর তিনি সিটুর নেতা হন। বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনে সিপিএমের ‘মুখ’ হিসেবেই তাঁকে দেখা যেত। অভিযোগ, সেই চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গেও নানা ভাবে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি।


পার্টি কংগ্রেসের সময়েই প্রকাশ্যে অভিযোগ
গত এপ্রিল মাসে তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ে সিপিএমের পার্টি কংগ্রেস চলাকালীন এক তরুণী ইন্দ্রজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ স্ক্রিনশট-সহ প্রকাশ্যে আনেন। যদিও তার আগেই তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। বেলঘরিয়ার যে তরুণী মূল অভিযোগ এনেছিলেন, তিনি এক সময় মানসিক ভাবে ভেঙেও পড়েছিলেন বলে খবর।
দেড় বছরে চার নেতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ
গত দেড় বছরে মহিলাঘটিত অভিযোগে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে রাজ্য সিপিএমকে।
-
প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষকে জেলা সম্পাদক পদ থেকে সরানো
-
উত্তর দমদমের প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যকে ৬ মাস সাসপেন্ড
-
প্রাক্তন সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরীর বহিষ্কার
-
এবং এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল ইন্দ্রজিৎ ঘোষের নাম
২০২৫ সাল শেষ হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত দলকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
বাড়ছে চাপ কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনায়
সিপিএমের অন্দরমহলের একাংশের মতে, রাজ্য কমিটির এই সিদ্ধান্তের পর চাপ বাড়বে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সংগঠনের উপর। কারণ, এই দুই জেলাতেই মহিলাঘটিত অভিযোগে একাধিক নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলমান। ভবিষ্যতে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে কি না, সে দিকেই এখন নজর।







