নিজের বুথে নূন্যতম জনপ্রিয়তা নেই, মীনাক্ষীকে ‘ক্যাপ্টেন’ মানতে নারাজ বামেদের একাংশ!

মীনাক্ষীর নেতৃত্ব মানতে নারাজ সিপিআইএম-এর মহিলামহল! যা নিয়ে কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তায় আলিমুদ্দিন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। বাংলায় সিপিআইএম-এর উঠতি মুখ। নতুন প্রজন্ম তাঁকে ‘ক্যাপ্টেন’ বলেই সম্বোধন করে থাকে। এ হেন মীনাক্ষীকে নিয়ে ডামাডোল শুরু বাম শিবিরে। লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশে দেখা গিয়েছে, মীনাক্ষীর নিজের বুথ থেকে সর্বসাকুল্যে ৪৬ ভোট পেয়েছে বামেরা। এবার মীনাক্ষীর নেতৃত্ব মানতে নারাজ সিপিআইএম-এর মহিলামহল! যা নিয়ে কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তায় আলিমুদ্দিন।

আরও পড়ুন: রাজ্য বিজেপি সভাপতি নয়, বাংলার হেমন্ত বিশ্বশর্মা হতে চান শুভেন্দু

কুলটি বিধানসভার চলবলপুর গ্রামের বাসিন্দা মীনাক্ষী। সেখানেরই চলবলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩ নম্বর বুথে এবার ভোট দিয়েছিলেন তিনি। এবার কমিশনের তথ্য বলছে, সেই বুথেই বিজেপি ভোট পেয়েছে ৩৪৮টি, তৃণমূল পেয়েছে ২৩৬টি ভোট। আর কংগ্রেস সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী জাহানারা খানের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৪৬টি ভোট! তাহলে, নিজের এলাকার মানুষকেই প্রভাবিত করতে ব্যর্থ মীনাক্ষী? প্রশ্নটা উঠছে বামেদের অন্দরেই।

আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, মীনাক্ষীকে নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছন দলের কয়েকজন। তাঁদের সকলেই আবার মহিলা। ঘটনার সূত্রপাত যদিও লোকসভা নির্বাচনের অনেক আগে। গত ১৪ এপ্রিলে। সেদিন দলীয় কার্যালয়ে সিপিআইএমের পাঁচ মহিলা প্রার্থীকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মিনাক্ষী। বলা হয়েছিল, মহিলা প্রার্থীরা জিতলে মহিলাদের জন্য কী কী করা হবে। ‘লেডিজ় স্পেশাল’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন মীনাক্ষী।

নিজের বুথে নূন্যতম জনপ্রিয়তা নেই, মীনাক্ষীকে 'ক্যাপ্টেন' মানতে নারাজ বামেদের একাংশ!
নিজের বুথে নূন্যতম জনপ্রিয়তা নেই, মীনাক্ষীকে ‘ক্যাপ্টেন’ মানতে নারাজ বামেদের একাংশ!

কিন্তু, সেদিনের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বামেদের মহিলা সংগঠনের প্রথম সারির নেত্রীরা। জল্পনা ছিল, মীনাক্ষীকে মহিলা সংগঠনের ‘মুখ’ করা হতে পারে। যদিও তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। উঠতি নেত্রীকে নিয়ে কার্যত দ্বিবিভক্ত আলুমুদ্দিন। একাংশের দাবি, মীনাক্ষীর মতো জনপ্রিয়তা কারুর নেই। অন্যপক্ষ বলছে, নূন্যতম জনপ্রিয়তা থাকলে নিজের বুথে অন্তত ৫০টি ভোট আদায় করতে পারতেন তিনি। তা পারেননি।

নিজের বুথে নূন্যতম জনপ্রিয়তা নেই, মীনাক্ষীকে ‘ক্যাপ্টেন’ মানতে নারাজ বামেদের একাংশ!

নিজের বুথে নূন্যতম জনপ্রিয়তা নেই, মীনাক্ষীকে 'ক্যাপ্টেন' মানতে নারাজ বামেদের একাংশ!

এবারের লোকসভায় সাড়া জাগিয়েও সাফল্য পেতে ব্যর্থ হয়েছে বামফ্রন্ট। ৩০ আসনে কংগ্রেসের সমর্থন নিয়েও জামানত জব্দ হয়েছে ২৮ জন প্রার্থীর। যাদবপুরের সৃজন ভট্টাচার্য্য, শ্রীরামপুরের দীপ্সিতা ধর থেকে শুরু করে তমলুকে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। কেবল দুই বর্ষীয়ান নেতা মহম্মদ সেলিম ও সুজন চক্রবর্তীর জামানত রক্ষা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের রাণিনগর, কেবল একটি বিধানসভায় লিড পেয়েছে বামেরা।

আর মাত্র বছর দুয়েকের অপেক্ষা। তার পরেই বিধানসভা নির্বাচন। এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। সেখানে বামেরা নিজেদের হারের কারণ খুঁজতেই শুরু করেনি এখনও। যদিও ব্রিগেড থেকে শুরু করে মিটিং, মিছিলে লাল ঝাণ্ডায় শহর ছাপিয়ে যেতে দেখেছে নগরবাসী। তাহলে ভোটব্যাঙ্কে তার প্রভাব নেই কেন? তরুণ প্রার্থীদের মধ্যেও মীনাক্ষী কিছুটা সিনিয়র। কিন্তু, নিজের এলাকায় তাঁর জনসংযোগ কতটা রয়েছে তা কিন্তু প্রমাণ হয়ে গেল এবারের লোকসভায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত