লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফল হওয়ার পর থেকেই রাজ্য বিজেপিতে চলছে ডামাডোল। এই খারাপ ফল বা হারের দায় কে নেবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে দড়ি টানাটানি। দলের অন্দরে একে অপরকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত রাজ্য নেতারা। দিলীপ ঘোষ যেমন প্রকাশ্যেই বলেছেন এই হারের দায় শুধু একা তার নয়। যারা যারা দল চালান এবং বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন দায় তাদেরও।
আরও পড়ুন: স্পেস সেন্টারে মারণ ব্যাকটেরিয়া, মহাকাশে মৃত্যুমুখে সুনীতা উইলিয়ামস!

এইরকম দড়ি টানাটানি যখন চলছে ঠিক সেই সময়তেই রাজ্য বিজেপি সভাপতি পদ ফাঁকা হতে চলেছে। এই পদে বসা নিয়ে অনেকের নাম উঠে আসছে। তবে এই পদের জন্য প্রধানত এগিয়ে আছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু গতকালের এক মন্তব্যে আকার ইঙ্গিতে শুভেন্দু বাবু বুঝিয়ে দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি হতে তিনি রাজি নন। কিন্তু বিরোধী দলনেতা কেন সংগঠনের মাথায় বসতে চাইছেন না? অসমর্থিত সূত্রে খবর, শুভেন্দুর মাথায় ঘুরছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ভাবনা।

২০২৬ সালে বিধানসভা ভোটে বিজেপি যদি সরকার গড়ার মতো অবস্থায় চলে আসে তাহলে তিনি মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হতে পারেন। এই ভাবনা থেকেই এই মন্তব্য বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নির্বাচন সহজে হবার নয়। যদি ধরে নেওয়া যায় ২৬ এ বিজেপি রাজ্য সরকারে আসবে তবুও কিন্তু শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দিবা স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ আরএসএস সমর্থন ছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর পদে বা কোন উঁচু পদে কারো পক্ষে বসা সম্ভব নয়।
সেই দিক থেকে শুভেন্দু অধিকারীর কোন আরএসএস ইতিহাস নেই। স্বাভাবিকভাবে আরএসএস চাইবে না অন্য দল থেকে আসা কোন নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী করে দিতে। তবে এই ঘটনার যে ব্যাতিক্রম নেই তা কিন্তু নয়। যেমন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা কিন্তু কংগ্রেস থেকে গেরুয়া শিবিরে এসে মুখ্যমন্ত্রী হেয়েছেন আসামের।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি নয়, বাংলার হেমন্ত বিশ্বশর্মা হতে চান শুভেন্দু

তবে অপরদিকে কিছু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যদি শুভেন্দু অধিকারী কে মুখ্যমন্ত্রী করা হয় তাহলে ফের একবার মাথাচাড়া দেবে দলের নব্য এবং প্রবীনদের লড়াই। যার ফলে রাজ্যের গেরুয়া সংগঠন অনেকটাই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই শুভেন্দু বাবুকে মুখ্যমন্ত্রী হতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন আর এস এস এর অনুমোদন। যেটা শুভেন্দু বাবুর পক্ষে আদায় করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।



