নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২১ নির্বাচনে জোট হচ্ছে বাম কংগ্রেসের। ইঙ্গিতে বার্তা সোনিয়ার। আবার পুরোনো পদে ফিরে এলেন বহরমপুরের সাংসদ শ্রী অধীর চৌধুরী। তাঁকে তার পুরোনো প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে পুনর্বহাল করল কংগ্রেস হাইকমান্ড। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিল্লির সঙ্গে বাংলার দায়িত্ব তার কাঁধে তুলে দিলো শীর্ষনেতৃত্ব। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে প্রদেশ সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। তবে দু বছর আগে সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎই তাঁকে সরিয়ে অভিজ্ঞ সোমেন মিত্রকে সভাপতি করে এআইসিসি।
আরও পড়ুনঃ ২ বছর স্থগিত EMI? দিতে হবে সুদ? কেন্দ্রকে হলফনামা দিতে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।


এদিকে একমাস আগে প্রয়াত হয়েছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেয়া সোমেন মিত্র। এখনও প্রদেশ কংগ্রেসে শোকের আবহ কাটেনি। কিন্তু সোমেন মিত্র প্রয়াত হওয়ার পরেই দিল্লীর মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য। প্রবল ইচ্ছা ছিল প্রদেশের সভাপতি হওয়ার। কিন্তু আবদুল মান্নান সহ তৃণমূল বিরোধী মহলের যুক্তি ছিল, প্রদীপ ভট্টাচার্য তৃণমূলের সমর্থনে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছেন। তাই তিনি সভাপতি হলেই চেষ্টা করবেন তৃনমূলের সাথে জোট করতে। তাই তৃণমূলের সাথে যাতে কোন ভাবেই জোট সম্ভাবনা না তৈরী হয় সে কারনেই প্রদীপ কে আটকাতে সোনিয়া গান্ধীর দ্বারস্থ হন মান্নান।
অধীর চৌধুরী কে প্রদেশ সভাপতির পদে চেয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী কে চিঠি লেখেন তিনি। সোনিয়া গান্ধীকে তিনি অনুরোধ করেন অধীর চৌধুরী কে রাজ্য কংগ্রেসের সভাপদি পদে বসানোর জন্যে। পাশাপাশি, তিনি সোনিয়া গান্ধীকে বলেন যাঁর জনসমর্থন রয়েছে, এমন নেতাকেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হোক। এ ব্যাপারে অধীর চৌধুরীই হবেন যোগ্য নেতা।
সূত্রের খবর সেই চিঠির পর সাতদিন সময় নেয় কংগ্রেস হাইকমান্ড। খতিয়ে দেখা হয় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সাথে জোটে যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তাই অধীর চৌধুরি কে ফের বসানো হল প্রদেশ সভাপতির পদে। অধীর সাংবাদিকদের বলেন “আমি দলের সৈনিক। তাই শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা ও কর্মীদের আশা দুটোই পূরণের চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখব না।”


২১ নির্বাচনে জোট হচ্ছে বাম কংগ্রেসের। বাংলায় বামেদের সঙ্গে সমঝোতা ও জোটের পথ তৈরি করেছিলেন অধীর বাবু। যা পরে এগিয়ে নিয়ে যান সোমেন মিত্র। এই পরিস্থিতিতে প্রদীপ ভট্টাচার্য কে সভাপতি করলে সেই জোটে সমস্যা দেখা দিতে পারে সেকথা ভেবেই পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হল অধীর বাবু কে। অধীর চৌধুরী রাজ্য কংগ্রেসের দায়িত্ব হাতে পাওয়ার পর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে। সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিম ও সুজন চক্রবর্তী রাতেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। সুতরাং ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে জোট করেই লড়ছে বাম কংগ্রেস তা নিয়ে কোন দ্বিধা থাকল না আর।








