পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণের গ্রাফ ফের ঊর্ধ্বমুখী। গত এক সপ্তাহেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ১১ জনের শরীরে মিলেছে COVID-19 ভাইরাসের সংক্রমণ। যার মধ্যে ৭ জন রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে, বেশিরভাগেরই শ্বাসকষ্ট ছিল মূল উপসর্গ।
প্রথমে শুধুমাত্র তিনজন আক্রান্তের খবর সামনে এলেও, পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ৪ হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১ জন। স্বাস্থ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ছ’জন ভর্তি রয়েছেন বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং একজন চিকিৎসাধীন দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে।


উপসর্গ ও চিকিৎসা:
এই দফার সংক্রমণে মূলত শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও দুর্বলতা লক্ষ করা যাচ্ছে। উপসর্গ দেখা দিলেই করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাঁদের রিপোর্ট পজিটিভ আসছে, তাঁদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে কোনও আক্রান্তের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ চিকিৎসা ও অক্সিজেন সাপোর্টে রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে কোভিড ভাইরাস এখনো সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়নি — তার রূপ পরিবর্তন করে ফের আঘাত হানছে।


আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও সতর্কতা:
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে, বিশেষ করে মালয়েশিয়া, হংকং ও সিঙ্গাপুরে নতুন করে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। একই প্রবণতা এখন ভারতের কিছু অংশে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওমিক্রনের JM.1 সাবভ্যারিয়েন্ট এই দফার সংক্রমণের মূল কারণ বলে অনুমান।
কী করবেন, কী করবেন না:
শ্বাসকষ্ট বা জ্বর থাকলে করোনা পরীক্ষা করান
মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি
নিয়মিত হাত ধোওয়া ও স্যানিটাইজ করা প্রয়োজন
কোভিড বুস্টার ডোজ নেওয়া থাকলে পুনরায় যাচাই করুন
বিশেষজ্ঞদের বার্তা:
“অযথা আতঙ্ক নয়, সচেতনতা জরুরি” — এই বার্তাই দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। রাজ্যে বর্তমানে তেমন বড় আকারের সংক্রমণ দেখা না দিলেও সতর্ক থাকা ও সরকারি গাইডলাইন মানা এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।







