নজরবন্দি ব্যুরো: ভয়াবহ করমণ্ডল এক্সপ্রেস বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে প্রায় দু মাস। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে বহু মানুষ। কিন্তু এখনও অনেকের শনাক্তকরণ বাকি। নাম-পরিচয় জানা যায়নি এমন মৃতদেহের সংখ্যা প্রায় ৩০। ডিএনএ পরীক্ষার পরও প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ। দেহগুলি এখনও সংরক্ষিত রয়েছে ভুবনেশ্বরের এইমসে।
আরও পড়ুন: সংক্রমণ কমেছে, শারীরিক অবস্থার উন্নতি, এবার ছুটি চাইছেন বুদ্ধবাবু
জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর কমপক্ষে ১৬২ জনের দেহ দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে এইমসে পাঠানো হয়েছিল। প্রথম দফার ডিএনএ পরীক্ষার পর ৮১ জনের দেহ শনাক্ত করা হয়। বিভিন্ন সমস্যার কারণে বাকি ৮১ জনের দেহের শনাক্তকরণের কাজ সম্পূর্ণ করা যায়নি। এরপর দ্বিতীয় দফার ডিএনএ পরীক্ষার পর ৫২ জনের দেহ শনাক্ত করে তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু এখনও ২৯ জনের মৃতদেহ শনাক্ত করা যায়নি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তৃতীয় দফায় ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। তার রিপোর্ট এলেই পরবর্তী পদক্ষেপের কথা ভাবা হবে। তবে বাকি দেহগুলির কী হবে, এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রেল, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার।

কয়েক দিন আগেই সংসদের বাদল অধিবেশনে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির রিপোর্ট উল্লেখ করে একটি রিপোর্ট পেশ করেন। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘বাহানগা বাজার স্টেশনের কাছে একটি লেভেল ক্রসিংয়ের রেল গেট পরিবর্তনের কাজ করতে গিয়ে তার সঙ্গে সংযুক্ত সিগন্যালিং ব্যবস্থার সার্কিটে অদল বদল হয়ে যায়। এই ভুলের কারণেই করমণ্ডল এক্সপ্রেসকে মেইন লাইন দিয়ে যাওয়ার সবুজ সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্রসওভারের কাছে পয়েন্ট সেট করা ছিল লুপ লাইনের দিকে। যার ফলে করমণ্ডল মেইন লাইন ছেড়ে লুপ লাইনে ঢুকে পড়ে।’

রাজ্যসভায় পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৮ জুলাই পর্যন্ত করমণ্ডল বিপর্যয়ে মৃত ২৯৫ জনের মধ্যে ২৫৪ জনের দেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৪১ জনের মৃতদেহ এখনও ওড়িশার ভুবনেশ্বরের এইমসে পড়ে রয়েছে। এই মৃতদেহগুলির ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণের জন্য নয়া দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওড়িশার ট্রেন দুর্ঘটনার আসল কারণ নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব সামনে এলেও পরবর্তীকালে তা খারিজ করে দাবি করা হয় গাফিলতির জেরেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। সিবিআই তদন্ত শুরু করে।
করমণ্ডল বিপর্যয়ের দু’মাস পরও দেহ শনাক্ত হয়নি, DNA পরীক্ষার পরও জানা যায়নি পরিচয়




