10th ফেব্রুয়ারি, 2026 (মঙ্গলবার) - 5:20 অপরাহ্ন
26 C
Kolkata

স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে বিরোধী জোটে ফাটল? কংগ্রেস তড়িঘড়ি নোটিস, ‘ধীরে চলো’ চাইছিলেন অভিষেক

লোকসভার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে কংগ্রেস ও তৃণমূলের কৌশলগত মতভেদ প্রকাশ্যে, তড়িঘড়ি নোটিসে বিরোধী ঐক্যে প্রশ্নচিহ্ন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা-র বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে বিরোধী শিবিরে মতভেদ প্রকাশ্যে। কংগ্রেস যেখানে দ্রুত পদক্ষেপে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস জমা দিয়েছে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছিলেন ধাপে-ধাপে, কৌশলী পথে এগোতে।

সংসদের অচলাবস্থা, বাজেট নিয়ে আলোচনা বন্ধ, এবং অধ্যক্ষের ভূমিকা— সব মিলিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবই শেষ অস্ত্র বলে মানছে বিরোধীরা। কিন্তু সেই অস্ত্র কবে ও কীভাবে ব্যবহার হবে, তা নিয়েই তৈরি হল ফাটল। তৃণমূল যেখানে আগে যৌথ চিঠি ও সময় দেওয়ার পক্ষে, সেখানে কংগ্রেস সরাসরি অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস জমা দিয়ে চাপ বাড়াল স্পিকারের উপর।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, অনাস্থা প্রস্তাবে তৃণমূলের কোনও আপত্তি নেই। দলের সব ২৮ জন সাংসদই সই করবেন। তবে তাঁর শর্ত ছিল— আগে ইন্ডিয়া ব্লক-এর সব শরিককে একসঙ্গে একটি যৌথ চিঠি পাঠাতে হবে অধ্যক্ষকে। সেখানে চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে তাঁকে দু’-তিন দিনের সময় দিতে হবে জবাবের জন্য।

কিন্তু তৃণমূলের সেই ‘ধীরে চলো’ নীতিতে সায় দেয়নি কংগ্রেস। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে সংসদের বিধি ও কার্যপ্রণালির রুল ৯৪সি অনুযায়ী অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস জমা দেয় তারা। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ জানান, আপাতত ১১৮ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে এই প্রস্তাবের পক্ষে।

অভিষেকের বক্তব্য ছিল, কংগ্রেসের আট জন সাংসদের সাসপেনশন-সহ কয়েকটি বিষয়ে অধ্যক্ষকে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যার সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর যুক্তি, ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ না দিলে বিজেপির সঙ্গে বিরোধীদের নৈতিক পার্থক্য থাকবে না। তাই আগে চিঠি, সময় দেওয়া— তার পরই অনাস্থা, এই ছিল তৃণমূলের অবস্থান।

সংসদের অচলাবস্থা নিয়েও সরব হন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, সংসদ সচল রাখতে তৃণমূল আগ্রহী হলেও কেন্দ্রীয় সরকার ও অধ্যক্ষ সেই দায়িত্ব পালন করছেন না। প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জিরো আওয়ারে জনগণের দাবি তোলার সুযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বাজেট নিয়ে আলোচনা হলে সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ পাবে— সেই ভয়েই বিজেপি সংসদ চালাতে চায় না, দাবি তৃণমূল নেতার।

শেষ পর্যন্ত অভিষেক স্পষ্ট করে দেন— যদি আগে যৌথ চিঠি পাঠিয়ে সময় দেওয়া হয় এবং তাতেও কোনও পদক্ষেপ না আসে, তবে শুক্রবার অনাস্থা প্রস্তাব এলে তৃণমূলের সব সাংসদ তাতে সই করবেন। কিন্তু তড়িঘড়ি প্রস্তাবে তারা সায় দেবে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত

Discover more from Najarbandi | Get Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading