দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে পূরণ হল। জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাজা কৃষ্ণনাথের নাম এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে চলেছে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। বিধানসভায় সংশোধনী বিল আনার সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়তেই খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে প্রাক্তনী ও জেলার শিক্ষামহলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থেকে রাজা কৃষ্ণনাথের নাম বাদ পড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ছিল প্রাক্তনীদের মধ্যে। কৃষ্ণনাথ কলেজকে কেন্দ্র করেই মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা, অথচ যাঁর দান করা জমিতে সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন, তাঁর নাম না থাকায় শুরু হয় প্রতিবাদ। প্রাক্তনী, শিক্ষাবিদ ও জেলার বিভিন্ন মহল থেকে নাম পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে।


এই প্রেক্ষিতেই বিধানসভায় সংশোধনী বিল আনা হয়। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, বর্তমান ‘মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর নাম বদলে ‘মুর্শিদাবাদ মহারাজা কৃষ্ণনাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বহরমপুর’ করা হবে।
ঐতিহাসিক কৃষ্ণনাথ কলেজের সূচনা হয় ১৮৫৩ সালের ১ নভেম্বর। কাশিমবাজার রাজ পরিবারের শিক্ষানুরাগী রাজা কৃষ্ণনাথ ও তাঁর স্ত্রী রানী স্বর্ণময়ীর উদ্যোগ এবং আর্থিক সহায়তায় তখন ‘বহরমপুর কলেজ’ নামে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে তার নামকরণ হয় কৃষ্ণনাথ কলেজ।
২০১৮ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তরণের সময় ‘কৃষ্ণনাথ’ নামটি বাদ পড়ায় শুরু হয় বিতর্ক। জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবমাননার অভিযোগ তুলে সরব হন প্রাক্তনী ও বিশিষ্টজনেরা। দীর্ঘ আট বছরের আন্দোলনের পর অবশেষে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তনীরা।










