কেন্দ্রীয় বাজেট ও করব্যবস্থা নিয়ে সংসদে তীব্র সুরে কেন্দ্রকে আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের জীবন জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত করের বোঝায় জর্জরিত। কৃষক, মধ্যবিত্ত ও গরিবদের স্বার্থ উপেক্ষা করেই নীতিনির্ধারণ হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
কৃষি ও বাণিজ্য নীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বলেন, আমেরিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তিতে ভারতের কৃষকরাই বিপদের মুখে পড়ছেন, অথচ লাভ হচ্ছে মার্কিন কৃষকদের। তাঁর কথায়, দেশে প্রতিদিন বহু কৃষক আত্মহত্যা করছেন, তবুও সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা করেনি। ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের পরেও এই বিষয়ে কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।


করব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “একটি শিশু জন্মানোর পর তার দুধ ও ন্যাপির উপর কর দিতে হয়। বড় হলে পড়াশোনার উপর কর, মোবাইল ডেটা থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী—সবকিছুতেই কর। রোজগার শুরু করলে আয়কর, আর মৃত্যুর পর শেষকৃত্যের সামগ্রীতেও কর দিতে হয়।”
জিএসটি-র বোঝা নিয়েও সরব হন তিনি। সংসদে অভিষেকের বক্তব্য, “সকালের চায়ের বিস্কুট থেকে শুরু করে পড়াশোনার সামগ্রী, চিনি থেকে বাথরুমের কমোড—সবকিছুর উপর জিএসটি চাপানো হয়েছে। স্কুল ফি, বাড়ি ভাড়া মেটাতে মেটাতে চাকুরিজীবীদের আয়ের বড় অংশ শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের নাগরিকদের উপর ‘ট্রিপল ট্যাক্স’-এর বোঝা চাপানো হচ্ছে। তাঁর মতে, একজন মানুষ প্রথমে আয়কর দেন, পরে গাড়ি কেনার সময় কর দেন, আর সেই গাড়ি রাস্তায় চালাতে গেলেও টোল দিতে হয়—অর্থাৎ তিন দফায় কর আদায় করা হচ্ছে।


বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের বাজেট “অন্তঃসারশূন্য” এবং এতে গরিবদের ক্রয়ক্ষমতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ৮৫ মিনিটের বাজেট ভাষণে বাংলার নাম একবারও উল্লেখ না হওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্ক নিয়েও কটাক্ষ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখা হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বরাদ্দে বৈষম্য করা হচ্ছে।







