রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে চতুর্থ দিনেই ম্যাচের রূপরেখা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। বিশাল লিড নিয়ে সেমিফাইনালের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিল বাংলা। শেষ দিনে প্রয়োজন ছিল মাত্র সাত উইকেট, আর সেটাই সহজেই তুলে নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশকে ইনিংস ও ৯০ রানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা পাকা করল বাংলা দল।
প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অন্ধ্রপ্রদেশ তোলে ২৯৫ রান। রিকি ভুই ৮৩, শ্রীকর ভরত ৪৭ এবং শাইক রশিদ ৪৬ রান করে দলের লড়াই টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তবে বাংলার পেস আক্রমণের সামনে টিকতে পারেননি বাকিরা। মুকেশ কুমার পাঁচ উইকেট নেন, আকাশ দীপের ঝুলিতে যায় চারটি উইকেট, একটি নেন মহম্মদ সামি।
তারপর ব্যাট হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সুদীপ কুমার ঘরামি। তিন নম্বরে নেমে ৫৯৬ বলে ২৯৯ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন তিনি। ৩১টি চার ও ছয়টি ছক্কার সাহায্যে প্রায় দেড় দিন উইকেটে থেকে দলকে বিশাল লিড এনে দেন। মাত্র এক রানের জন্য ট্রিপল সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও তাঁর ইনিংসই ম্যাচের ভিত্তি গড়ে দেয়।
তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন সুমন্ত গুপ্ত (৮১)। শতরানের খুব কাছে গিয়ে ২২৯ বলে ৯৫ রানে আউট হন শাকির হাবিব গান্ধী। শেষে ৩৩ বলে ৫৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন মহম্মদ সামি। বাংলার প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৬২৯ রানে, ফলে ৩৩৪ রানের বিশাল লিড পায় দল।
দ্বিতীয় ইনিংসে অন্ধ্রপ্রদেশের হয়ে লড়াই করেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। এক প্রান্ত আগলে ৯০ রান করেন তিনি। লোয়ার অর্ডারে ত্রিপূর্ণ বিজয় করেন ৪৬। তবে শাহবাজ় আহমেদের স্পিনে ভেঙে পড়ে বাকি ব্যাটিং। দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট নেন তিনি, দুই উইকেট পান সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল।
শেষ পর্যন্ত ২৪৪ রানেই গুটিয়ে যায় অন্ধ্রপ্রদেশ। ইনিংস ও ৯০ রানের জয়ে রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলা।



