নজরবন্দি ব্যুরোঃ জটিলতা জারি হাউস অ্যারেস্ট নিয়ে, বেশ কদিনের ভাবনা চিন্তার পর জামিন পেলেন ৪ জনই তবে থাকতে হবে গৃহবন্দী হয়ে। আর তাতেই শুরু হয়েছে মতবিরোধ। বিরতির ফর ফের সয়াল-জবাব শুরু হয়েছে হাইকোর্টে। গত কদিনের টানাপোড়েন, বাড়ি থেকে নিজাম প্যালেস, প্রেসিডেন্সি থেকে উডবার্ণ। সব মিলিয়ে নারদ কান্ডের পারদ চড়ছিলো দিনদিন। সোমবার থেকে শুক্রবার রাজ্য-রাজনীতি এক প্রকার তোলপাড় ছিলো এই এক বিষয়ে।
আরও পড়ুনঃ করোনা নিয়ে এবার নরেন্দ্র মোদীকে খোলা চিঠি লিখলেন দেশের ১১৬ জন প্রাক্তন আমলা।


ঘটনার সূত্রপাত সোমবার, আচমকা বিনা নোটিসে নারদ কান্ডের জন্য একে একে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ফিরহাদ-সুব্রত-মদন এবং শোভনকে। এঁদের মধ্যে দুজন মমতা সরকারের বর্তমানের মন্ত্রী। একজন বিধায়ক, এবং একজন প্রাক্তন বিধায়ক। তার পর থেকে আজ এখনো পর্যন্ত ঘণ্টায় ঘন্টায় বদলেছে এই মামলার ভোল।
প্রথম দিনেই নিম্ন আদালত জামিন দিলেও, তা নাপসন্দ ছিলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলের। মামলা যায় কলকাতা হাইকোর্টে। CBI এর তরফ থেকে চারজনের গ্রেপ্তারি এবং অন্যরাজ্যে মামলা স্থানান্তরিত করার আবেদন জানানো হয়ে।, অন্যদিকে বারবার প্রশ্ন উঠেছিলো চার্জশিট তৈরি থাকলেও গ্রেপ্তারি কেনো চাইছে CBI, ঘটনার প্রথম দিনেই CBI এর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় FIR করেছেন তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং সুব্রত মুখ্যপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করছেন কংগ্রেসের মুখপাত্র এবং রাজ্যসভার সাংসদ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙভি। মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করছেন সিদ্ধার্থ লুথার। কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী একাধিক মামলার দায়িত্বে রয়েছেন সিদ্ধার্থ লুথার। অন্যদিকে CBI এর তরফ থেকে মাঠে নামছেন অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার মেহেতা। সব মিলিয়ে হেভিওয়েটদের হাইভোল্টেজ মামলা চলছে বাংলায়।


বুধবার সেই মামলার পরবর্তী শুনানি প্রায় আড়াই ঘন্টা ব্যাপী চললেও সমাধান আসেনি। গতকাল হওয়ার কথা ছিলো পরবর্তী শুনানি। তবে বিশেষ কারণে সেই শুনানিও সম্ভব হয়নি। তার পরেই আজ দিনের প্রথম ভাগ থেকে চলছিলো নারদ কান্ডের এই শুনানি। প্রায় সোয়া এগারোটা থেকে মামলার শুনানির চলে। তবে আদালত জানিয়েছে শর্তসাপেক্ষ জামিন পাবেন চারজনই। সুত্রের খবর সেখানে ৪জনের জামিন মঞ্জুর হওয়া নিয়ে মতবিরোধ ঘটে দুই বিচারপতির।
বিচারপতি অরিজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায় জামিনের পক্ষে রায় দিলেও তার বিরোধীতা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল। সর্বশেষ হাইকোর্টের তরফ থেকে জানানো হয়েছে শর্তসাপেক্ষে জামিন পাচ্ছেন চারজনেই। আপাতত জেল হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেও থাকতে হবে গৃহবন্দী। সিবিআই কর্তাদের নজরদারির মধ্যেই থাকবেন চার জনই।
তবে এই রায় নিয়ে আদালতে ফের চলছে সওয়াল-জবাব! আদালতেই এই সিদ্ধান্তকে তুষার মেহতা স্বাগত জানালেও প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলছিলেন অভিষেক। দুই বিচারপরি জামিনের সিদ্ধান্তে একমত না হওয়ায় প্রথমেই উচ্চতর বেঞ্চে যাবেন বলে জানিয়েছিলেন অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তাঁর বক্তব্য ছিলো, ‘‘এঁরা সিনিয়র মিনিস্টার। এঁদের কোথাও যাওয়ার দরকার নেই, তাহলে কেন গৃহবন্দি করার সিদ্ধান্ত?’ সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন বর্তমানে কোভিড পরিস্থিতি রাস্তায় নেমে কাজ করা দরকার তাঁদের। হেফাজতের কারণে কাজ আটকে আছে বলেও সওয়াল করেন তিনি। অন্যদিকে CBI আইনজীবী তুষার মেহতা এর উত্তরে বলেছিলেন, ‘‘গৃহবন্দি হলেও উনি তো বাড়িতে থেকে কাজ করতে পারবেন।’’







