ডিপসিক, চিনের একটি শক্তিশালী আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) সিস্টেম, এখন বিশ্বের প্রযুক্তি মহলে সাড়া ফেলেছে। এটি চ্যাটজিপিটি এবং গুগলের জেমিনির থেকে আরও দ্রুত এবং দক্ষ কাজ করে, সেই সাথে খরচের দিক থেকেও অনেক বেশি সাশ্রয়ী। ডিপসিক ২০২৩ সালে তৈরি হওয়া সত্ত্বেও, ইতিমধ্যে এর কার্যকারিতা এবং মূল্য কমিয়ে সকলকে চমকে দিয়েছে।
ডিপসিকের মালিক, লিয়াং ওয়েনফেং, তার কৌশল দিয়ে মার্কিন প্রযুক্তিকে হারিয়ে দিয়েছে। এটি তৈরি করতে মার্কিন সংস্থা এনভিডিয়ার এ-১০০ চিপ প্রয়োজন হলেও, চীন-আমেরিকা দ্বন্দ্বের কারণে এ চিপ পাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে লিয়াং অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে প্রচুর এ-১০০ চিপ সংগ্রহ করেছিলেন, যার মাধ্যমে ডিপসিক তৈরি করা সম্ভব হয়।


আজকের হিসাব অনুযায়ী, ডিপসিক চ্যাটজিপিটি বা গুগল জেমিনির তুলনায় অন্তত ১৪% দ্রুত এবং ৯০-৯৫% কম খরচে কাজ করছে। এর মানে, আপনি যদি iPhone 16 Pro Max এর থেকেও উন্নত ফোন মাত্র ৫ হাজার টাকায় পান, তাহলে কল্পনা করুন অ্যাপল বা অন্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানির অবস্থান কী হবে।
ডিপসিক বর্তমানে ফ্রি ব্যবহার করা যায়, তবে মনে রাখতে হবে, এটি চিনা প্রযুক্তি, তাই ফোন থেকে ডেটা চুরি হওয়া বা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের জন্য দায়ভার কারও নয়। এটি ব্যবহার করার আগে নিজের ঝুঁকি বিবেচনা করা উচিত।
ভারত এবং বিশ্ব: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভবিষ্যত


এই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, ভারত এখনও এআইয়ের দুনিয়ায় পিছিয়ে রয়েছে। ভারতীয়দের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হল অর্থের অভাব, দক্ষ কর্মী ও পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব। যদি ভারত এআই প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকে, তবে বিশ্বে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে যেতে হবে।
আমাদের ছোটদের পড়াশোনা এবং তাদের তৈরি করার সময় এআই প্রযুক্তি নিয়ে আরও সচেতন হতে হবে। আগামী দশকে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কাজের জায়গার ৬০ শতাংশ দখল করবে, আর বাকি ৪০ শতাংশ কাজের জন্য মানুষের শ্রম প্রয়োজন হবে।







