জুনিয়র চিকিৎসকদের লাগাতার তিন দিন অবস্থান বিক্ষোভের পর অবশেষে নবান্নে আলোচনার জন্য পৌঁছন ৩০ জনের প্রতিনিধি দল। কিন্তু শর্তের দর কসাকসি তে নবান্নের গেটেই আটকে গেল বৈঠক। লাইভ সম্প্রচারে প্রশাসন রাজি না হওয়ায় নবান্নে বৈঠকে বসলো না জুনিয়র চিকিৎসকরা। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী এদিন দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর অবশেষে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান লাইভ সম্প্রচার সম্ভব নয় কারণ বিষয়টি বিচারাধীন। বদলে এই বৈঠকের ভিডিও রেকর্ড ওই চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দলের হাতে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। পরে তিনি ওই জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশকে তোপ দেগে বলেন, “ওরা বিচার চায় না, চেয়ার চায়।”
দীর্ঘ তিন দিন ধরে নবান্নে জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে একাধিক টানা পড়েন চলে। চিঠি এবং পাল্টা চিঠির আদান-প্রদানে ক্রমেই শুরু হয় স্নায়ুযুদ্ধ। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার সময় নবান্নের বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য ৩০ জন প্রতিনিধিদল নিয়ে পৌছন জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। কিন্তু একটি শর্ত না মানায় অবশেষে ভেস্তে যায় সেই বৈঠক। অন্যদিকে সভাকক্ষে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”আগেই জানানো হয়েছিল এই বৈঠকের ভিডিও রেকর্ড করা হবে। সেই কারণে সভাকক্ষের ভেতর বসানো হয়েছিল ক্যামেরা। আর সেই ভিডিও রেকর্ড তুলে দেওয়া হতো চিকিৎসকদের হাতে। কিন্তু মামলা যেহেতু বিচারাধীন তাই সরাসরি সম্প্রচার সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি সম্প্রচার করতে পারে। কিন্তু আমরা পারিনা।


এরপর তিনি বলেন, “আমরা এরকমটা চাইনি যেখানে এই অচল অবস্থা থেকে যায়। আজকের এই বৈঠক ইতিবাচক হলে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে জানানো হত।” পাশাপাশি নির্যাতিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা নির্যাতিতার বিষয়ে একটা নীরবতা পালন করতাম। একই সাথে সীতারাম ইয়েচুরির মৃত্যুতেও একটা শোক প্রকাশ করে নীরবতা পালন করতে পারতাম কিন্তু সেটা হল না।” এরপর তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাকে অসম্মান করা হয়েছে। ওরা বিচার চায় না চায় একটা চেয়ার। কিন্তু আমি সাধারণ মানুষের স্বার্থে পদত্যাগ করতেও রাজি আছি।”
উল্লেখ্য, এর আগেও চিকিৎসকদের এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে বলেই দাবি তুলেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। যেদিন বৈঠকে তারও উপস্থিতি দেখা যায়। পাশাপাশি চিকিৎসকদের আন্দোলন সহ রাস্তায় বিচারের জন্য একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচিকেও রাজনৈতিক কারণ বলেই কটাক্ষ করেছিলেন শাসকদলের একাধিক নেতা। নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর একটা কৌশল বলেও দাবি তুলেছিলেন কেউ কেউ। আর এবার সেই পথে কিছুটা হেঁটেই এই আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের একাংশের নেতা হওয়ার উদ্দেশ্যকেই তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।







