পুরুলিয়ার সভা সেরে ফেরার পথে চন্দ্রকোনায় কনভয়ের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে ফোন করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দু’জনের মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিট কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হামলাটি ‘প্রাণঘাতী’ ছিল এবং পুলিশের সহযোগিতায় শাসকদলের যুব নেতৃত্ব ও কর্মীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে—এমন অভিযোগই নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন শুভেন্দু।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই হামলার সময়ের ভিডিও ফুটেজ চেয়েছে। সূত্রের খবর, এ বিষয়ে বিরোধী দলনেতার দফতরের কাছ থেকেও একটি রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে এবং সেই সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এই অভিযোগকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ভারতীয় জনতা পার্টি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে যেদিন থেকে হারিয়েছেন, সেদিন থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর উপর একের পর এক হামলা চলছে।”
পাল্টা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এর মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী দাবি করেন, “শুভেন্দুর গাড়িতে কোনও হামলা হয়নি। জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল—সেই স্লোগানও সামলাতে পারেননি তিনি।”
এদিকে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে লেখেন, “চন্দ্রকোনায় ভুল করে বিজেপি কর্মীদেরই পেটানো হলে কেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী জবাব দাও।”
হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে রাতেই জেলায় জেলায় রাস্তায় নামে বিজেপি। বাঁকুড়ার লালবাজারে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান দলের কর্মী-সমর্থকরা। বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নিলাদ্রী শেখর দানা-র নেতৃত্বে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। একই সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি থানার সামনেও বিক্ষোভে সামিল হন বিজেপি কর্মীরা।
চন্দ্রকোনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক রিপোর্ট ও ভিডিও ফুটেজ সামনে এলে রাজনৈতিক তরজার নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।



