রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে বিতর্ক! স্থান বদলের কারণ জানতে রাজ্যের রিপোর্ট চাইল শাহ-র মন্ত্রক

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফরে অনুষ্ঠানস্থল বদল ঘিরে বিতর্ক। ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে বাংলার মুখ্যসচিবের কাছে জরুরি রিপোর্ট চাইল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফরের সময় অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্যের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের দফতর থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শনিবার রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে ঠিক কী কী ঘটেছিল এবং প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল—তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট রবিবার বিকেলের মধ্যেই পাঠাতে হবে অমিত শাহের মন্ত্রকে।

সূত্রের খবর, শনিবার দিনভর রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে যে ঘটনাপ্রবাহ তৈরি হয়, তা নিয়ে কেন্দ্র বিশেষভাবে রিপোর্ট চাইছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, রাষ্ট্রপতির সফরের সময় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সব তথ্যই রাজ্যের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফর মূলত নির্ধারিত ছিল শুক্রবার বিকেলে। তবে অনিবার্য কারণে সেই সফর পিছিয়ে যায় এবং তিনি শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন। এরপর তাঁর শিলিগুড়িতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে উপস্থিত থাকার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে পরে সেই অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করা হয়। এর পরিবর্তে শিলিগুড়ির কাছে গোঁসাইপুর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাঁওতাল কনফারেন্সে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি।

এই স্থান পরিবর্তন নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। রাষ্ট্রপতি নিজেও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি নিজেই বিধাননগরে পৌঁছে যান, যেখানে মূল অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।

সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, সাধারণত কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি গেলে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রীর উপস্থিত থাকা প্রত্যাশিত। তিনি মন্তব্য করেন, “মমতা আমার ছোট বোনের মতো। জানি না, হয়তো কোনও কারণে আমার উপর রাগ করেছে।”

অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসন জানিয়েছিল পর্যাপ্ত জায়গা নেই বলেই অনুষ্ঠান অন্যত্র সরানো হয়েছে। কিন্তু বিধাননগরে গিয়ে তিনি দেখেন সেখানে যথেষ্ট বড় জায়গা রয়েছে।

এই ঘটনার আরেকটি দিকও সামনে এসেছে। সাধারণত রাষ্ট্রপতি কোনও রাজ্যে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজ্যের মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বাগডোগরা বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে কোনও রাজ্য মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেবল শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি.ভি. আনন্দ বোস পদত্যাগ করেছেন। ফলে এই সফরের সময় রাজ্যপালের উপস্থিতিও ছিল না। এই সমস্ত ঘটনার প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত