প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এবার আরও কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র কড়া বার্তার পর পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়ম রুখতে বিদ্যমান আইনে বড়সড় সংশোধনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের জন্য ন্যূনতম তিন বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল এবং মোটা অঙ্কের জরিমানার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। শুক্রবারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই সংশোধনী নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, সংশোধিত আইনে শুধু ব্যক্তি নয়, পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে। যদি কোনও সংস্থা প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাঁচ থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান যুক্ত হতে পারে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে সংশোধনীটি সংসদে পেশ করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও সাধারণ অপরাধ নয়। তাঁর কথায়, এই ধরনের ঘটনা লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই গত আড়াই মাসে একাধিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের প্রথম লক্ষ্য ছিল পরীক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করা। সেই কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা আয়োজন এবং ফল প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪ (Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Act, 2024)-এ সংশোধন এনে শাস্তির মাত্রা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। সরকারের মতে, কঠোর আইন কার্যকর হলে ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে, প্রশ্নফাঁস ইস্যু ঘিরে আন্দোলনরত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রের শীর্ষ মন্ত্রীদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে বৈঠকের স্থান হিসেবে কনস্টিটিউশন ক্লাব (Constitution Club)-কে বেছে নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) এবং জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh) উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার এই যুগপৎ উদ্যোগের দিকে এখন নজর দেশের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষা মহলের। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী সংসদীয় প্রক্রিয়ার উপরই নির্ভর করবে নতুন আইন কত দ্রুত কার্যকর হয়।



