NEET প্রশ্নফাঁস আন্দোলনে উত্তাল বাংলা! সিজেপি-বামেদের মোকাবিলায় সক্রিয় RSS, কোথায় কী কর্মসূচি?

NEET প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের পাল্টা মোকাবিলায় রাজ্যে পথে নামছে সঙ্ঘ পরিবার। শুক্রবার থেকে জেলায় জেলায় মিছিল ও পথসভা। শিক্ষা সংগঠনগুলির যৌথ কর্মসূচি 'শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ'।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা: NEET পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে গোটা দেশে তৈরি হওয়া আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এবার সরাসরি মাঠে নামছে সঙ্ঘ পরিবার। রাজ্যে শুক্রবার দুপুর থেকেই একাধিক শিক্ষা সংগঠন যৌথভাবে পথসভা ও মিছিলের ডাক দিয়েছে। এবিভিপি (ABVP), এবিআরএসএম, বিএসএম ও বিদ্যা ভারতী-সহ অন্তত আধ ডজন সংগঠন একযোগে জেলায় জেলায় কর্মসূচি পালন করবে। কলকাতায় কেন্দ্রীয় মিছিলের পরিকল্পনাও দ্রুত চূড়ান্ত হচ্ছে বলে সঙ্ঘ সূত্রে খবর।

শিক্ষাক্ষেত্রে সক্রিয় আরএসএস (RSS)-এর সহযোগী সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে যুক্ত। তবে এ বার তাঁরা একগুচ্ছ সংগঠনকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে গড়ে তুলেছেন ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’ নামের একটি অভিন্ন ব্যানার। এই ব্যানারের অধীনে আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের নানা প্রান্তে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল হবে। সংগঠনগুলির দাবি, NEET আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে বামপন্থী (Left) ও সিপিএম (CPM)-সহ কিছু রাজনৈতিক মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যা মেনে নেওয়া যায় না।

সঙ্ঘ পরিবারের অভিযোগ, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা উদ্বেগজনক ঠিকই, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে এবং ফলাফল প্রকাশ করেছে। তার পরেও আন্দোলনকে হিংসাত্মক রূপ দেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনর্থক। এবিআরএসএমের রাজ্য নেতা বাপি প্রামাণিক (Bapi Pramanik) জানিয়েছেন, “প্রশ্নফাঁস নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজেই তা স্বীকার করেছেন। পুনঃপরীক্ষা করিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ছাত্রদের বছর নষ্ট হতে দেয়নি। তার পরেও এই হিংসাত্মক আন্দোলন অযৌক্তিক। আমরা সেই বার্তাই জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পথে নামছি।”

শুক্রবার উত্তরবঙ্গে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বেলা ১২টায় প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখানে জাতীয়তাবাদী ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে সঙ্ঘ পরিবার পথে নামছে ঝাড়গ্রামে। বিকেল সাড়ে চারটায় ঝাড়গ্রাম পাঁচমাথার মোড়ে জমায়েত হয়ে সেখান থেকে মিছিল শুরু হবে, শেষে পথসভায় পরিণত হবে। বাঁকুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, জলপাইগুড়ি ও পশ্চিম বর্ধমানেও একই ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বিএসএম-এর প্রান্ত টোলি সদস্য অরিন্দম ভট্টাচার্য (Arindam Bhattacharya) বলেন, “NEET-কাণ্ড বা প্রশ্নফাঁস রুখতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন ছাত্ররা, কিন্তু সেই আন্দোলনে এখন দেশবিরোধী শক্তি ঢুকে পড়েছে। তাঁরা পুরো আন্দোলনের নেতৃত্ব দখল করার চেষ্টা করছেন। আমরা এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।” তাঁর কথায়, প্রশ্নফাঁসের দাবি এখন কেবল মুখোশ মাত্র, আসল লক্ষ্য অন্য কিছু।

সঙ্ঘ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতায় একটি বড় কেন্দ্রীয় মিছিল আয়োজন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষক-ছাত্র-অধ্যাপকরা কলকাতায় সমবেত হয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করবেন বলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এখনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

বামপন্থী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে অবশ্য এই পদক্ষেপকে ‘জনমত বিভ্রান্তির প্রচেষ্টা’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সঙ্ঘ পরিবার দাবি করছে, NEET আন্দোলনের নামে যে অরাজকতা তৈরি হচ্ছে, তাকে কোনও অবস্থাতেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। শিক্ষাক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করছেন।

আগামী কয়েকদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই মিছিল ও সমাবেশ চলবে। তারপর কলকাতার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মাধ্যমে সঙ্ঘ পরিবার তাদের বার্তা আরও জোরালো করতে চায়। ইতিমধ্যেই সংগঠনগুলির রাজ্য নেতৃত্ব একাধিক বৈঠক করে কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করেছেন। শিক্ষাক্ষেত্রে এই সংগঠনগুলির সম্মিলিত পদক্ষেপ আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন