ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) ফাইনাল শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরেও থামছে না বিতর্ক। আর্জেন্টিনা (Argentina) বনাম স্পেন (Spain) ম্যাচকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক দাবি, প্রশ্ন এবং জল্পনা ঘুরে বেড়াচ্ছে। লাউতারো মার্তিনেজ়কে না খেলানো থেকে শুরু করে ফুটবলারদের পরিবারের অনুপস্থিতি—বিভিন্ন ঘটনাকে সামনে এনে ম্যাচের ফল নিয়ে নানা অনুমান করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই দাবিগুলির পক্ষে কোনও সরকারি বা স্বাধীন তদন্তে প্রমাণ সামনে আসেনি।
ফাইনালের পর সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি (Lionel Scaloni)-র দল নির্বাচন। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে পরিবর্ত হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ গোল করা লাউতারো মার্তিনেজ় (Lautaro Martínez)-কে ফাইনালে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক সমর্থক। যদিও ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বড় ম্যাচে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণ কোচের অধিকার এবং এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন নয়।
আরও একটি বিষয় নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে লিওনেল মেসি (Lionel Messi)-র পরিবারের উপস্থিতি ঘিরে। টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলিতে তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো (Antonela Roccuzzo) ও সন্তানদের স্টেডিয়ামে দেখা গেলেও ফাইনালে তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে নানা দাবি ছড়িয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনও সরকারি ব্যাখ্যা বা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
একইভাবে আর্জেন্টিনার অন্যান্য ফুটবলারের পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ফুটবলারের স্টেডিয়ামে অনুপস্থিতি নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এগুলির কোনওটিই নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হয়নি।
এছাড়া আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (Argentine Football Association)-এর সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়া (Claudio “Chiqui” Tapia)-কে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম, কিংবা ফিফার (FIFA) সম্ভাব্য শাস্তির ভয়ে ম্যাচের ফল প্রভাবিত হয়েছে—এমন দাবিও বিভিন্ন পোস্টে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে এই অভিযোগগুলির সমর্থনে কোনও সরকারি তদন্তের রিপোর্ট, আদালতের নথি বা ফিফার পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি।
ম্যাচের আগে স্কালোনির আবেগপ্রবণ মুহূর্ত কিংবা লিসান্দ্রো মার্তিনেজ় (Lisandro Martínez) ও এনজো ফার্নান্দেজ় (Enzo Fernández)-এর চোখে জল নিয়েও নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু খেলোয়াড়দের আবেগ বা মানসিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে ম্যাচের ফল নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আর্জেন্টিনা দলের কোচিং স্টাফ এবং একাধিক ফুটবলারের পরিবারের সদস্য ইতিমধ্যেই এই ধরনের জল্পনা ও অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ফিফা বা সংশ্লিষ্ট কোনও সংস্থাও ফাইনাল ম্যাচে অনিয়ম বা ফল প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগে তদন্তের কথা ঘোষণা করেনি।
ফলে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে বিতর্ক এবং প্রশ্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হলেও, সেগুলিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নতুন কোনও সরকারি তদন্ত বা প্রমাণ সামনে না আসা পর্যন্ত এই দাবিগুলিকে শুধুমাত্র অনলাইন জল্পনা হিসেবেই দেখা উচিত।



