চা না কফি—শরীরের জন্য কোনটা বেশি উপকারী? বিশেষজ্ঞদের মতে কোন পানীয় রাখবেন রোজের তালিকায়

Tea vs Coffee বিতর্কে কোন পানীয় শরীরের জন্য বেশি উপকারী? ক্যাফিন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, হৃদ্‌স্বাস্থ্য, ঘুম এবং মানসিক চাপের উপর দুই পানীয়ের প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সকালের শুরু থেকে অফিসের বিরতি, বৃষ্টিভেজা বিকেল কিংবা বন্ধুদের আড্ডা—এক কাপ চা বা কফি ছাড়া যেন অনেকের দিনই সম্পূর্ণ হয় না। কিন্তু Tea vs Coffee বিতর্ক বহুদিনের। কোনটি শরীরের জন্য বেশি উপকারী? ওজন কমানো, হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য, মানসিক চাপ কমানো কিংবা ঘুম—সব দিক বিবেচনা করলে কোন পানীয় এগিয়ে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর নির্ভর করে আপনার শরীর, অভ্যাস এবং কতটা পরিমাণে পান করছেন তার উপর।

কফিপ্রেমীদের কাছে কফি শুধু একটি পানীয় নয়, বরং তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস। কফিতে থাকা ক্যাফিন (Caffeine) দ্রুত স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে, ক্লান্তি কমায় এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই দীর্ঘ সময় কাজের চাপ বা ঘুমঘুম ভাব কাটাতে অনেকেই কফির উপর ভরসা করেন।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পরিমিত পরিমাণে কফি পান করলে বিপাকক্রিয়া (Metabolism) কিছুটা বাড়তে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত সীমিত পরিমাণে কফি পান হৃদ্‌রোগ, পার্কিনসনস (Parkinson’s Disease) এবং গলস্টোনের মতো কিছু রোগের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে একাধিক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কফি কোনও রোগের চিকিৎসা বা নিশ্চয়তাপূর্ণ প্রতিরোধক।

অন্যদিকে, চা (Tea) অনেকের কাছে প্রশান্তির প্রতীক। বিশেষ করে লাল চা বা গ্রিন টি (Green Tea)-তে ক্যাফিনের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকায় এটি শরীরকে সতেজ করলেও অতিরিক্ত উত্তেজিত করে না। ফলে যাঁরা ক্যাফিনে সংবেদনশীল, তাঁদের কাছে চা অনেক সময় বেশি আরামদায়ক বিকল্প হতে পারে।

চায়ে থাকা এল-থেনাইন (L-theanine) নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড মনকে শান্ত রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া গ্রিন টি এবং চিনি ছাড়া লাল চায়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এগুলি গ্রহণ করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, আসল সমস্যা চা বা কফিতে নয়, বরং সেগুলি কীভাবে এবং কতটা পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে তাতে। অতিরিক্ত কফি পান করলে অনিদ্রা, বুক ধড়ফড়, অম্বল বা উদ্বেগ বাড়তে পারে। আবার চায়ে অতিরিক্ত চিনি, দুধ বা কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে নিয়মিত পান করলে ক্যালোরি বেড়ে ওজন বৃদ্ধি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দিনে পরিমিত পরিমাণে চা বা কফি পান করুন এবং সম্ভব হলে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন। যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, অ্যাসিডিটির সমস্যা বা বিশেষ কোনও শারীরিক অসুস্থতা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যাফিন গ্রহণের পরিমাণ নির্ধারণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

সব মিলিয়ে, চা বনাম কফি-র লড়াইয়ে কোনও একক বিজয়ী নেই। আপনার শরীরের প্রয়োজন, জীবনযাত্রা এবং পান করার অভ্যাসই ঠিক করবে কোনটি আপনার জন্য বেশি উপকারী। পরিমিতি বজায় রাখলে চা ও কফি—দুটিই সুস্থ জীবনযাপনের অংশ হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন