নিট (NEET) বিতর্ককে ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটাতে শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখোমুখি বসতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিনিধিরা। দুপুর ১২টার পর অনুষ্ঠিত হতে চলা এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে নিট পরীক্ষাকে ঘিরে চলা আন্দোলন এবং তার সম্ভাব্য সমাধানের পথ।
সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে উপস্থিত থাকবেন একাধিক শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী। অন্যদিকে, আন্দোলনকারী পক্ষের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেবেন। সরকারের লক্ষ্য, আলোচনার মাধ্যমে চলমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করা।
সূত্রের দাবি, নিট বিতর্ককে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে বিক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব সংসদের বাদল অধিবেশনেও পড়ছে। তাই সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং উত্তেজনা কমাতে দ্রুত আলোচনার পথেই এগোতে চাইছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের রাজপথের বিক্ষোভ থেকে সরে এসে আলোচনার টেবিলে সমস্যার সমাধান খোঁজার আবেদন জানানো হতে পারে।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh) জানান, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত চারবার সরকারের তরফে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনকারীরা যে সময় ও যে জায়গায় আলোচনা করতে চান, সরকার সেই অনুযায়ী বৈঠকে প্রস্তুত।
এদিকে, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সংসদে কবে আলোচনা হবে, সেই সিদ্ধান্তও বিরোধী দলগুলির উপর ছেড়ে দিয়েছে কেন্দ্র। ফলে শুক্রবারের বৈঠক শুধু আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নয়, সংসদের অচলাবস্থা কাটানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) বলেন, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে কোনও আপস করবে না সরকার। তাঁর বক্তব্য, দেশের যুবসমাজের স্বার্থ রক্ষা করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের কথাও জানান তিনি।
রাজধানী দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে এই আন্দোলনের প্রভাব দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। যুবসমাজের একাংশের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও এই আন্দোলনকে ঘিরে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। শুক্রবারের বৈঠক থেকে কোনও ইতিবাচক বার্তা বেরিয়ে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর সকলের।



