বিধানসভা ভোট ঘোষণার আগেই পশ্চিমবঙ্গে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে নির্বাচন কমিশন। ১ মার্চ থেকে রাজ্যে ঢুকতে শুরু করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী—প্রাথমিক ভাবে মোট ৪৮০ কোম্পানি মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি, দ্বিতীয় দফায় আরও ২৮০ কোম্পানি। ভোটের আগে এমন অগ্রিম মোতায়েন রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন তাৎপর্য তৈরি করেছে।
সূত্রের খবর, কমিশনের নির্দেশ মেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপিকে চিঠি পাঠিয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
প্রথম দফায় কোন বাহিনী, কত কোম্পানি?
১ মার্চের মধ্যে পৌঁছবে মোট ২৪০ কোম্পানি। তার মধ্যে রয়েছে—
১১০ কোম্পানি সিআরপিএফ
৫৫ কোম্পানি বিএসএফ
২৭ কোম্পানি আইটিবিপি
২৭ কোম্পানি এসএসবি
২১ কোম্পানি সিআইএসএফ
দ্বিতীয় দফায় আরও ২৮০ কোম্পানি
১০ মার্চের মধ্যে রাজ্যে পৌঁছবে আরও ২৮০ কোম্পানি। তার মধ্যে—
১২০ কোম্পানি সিআরপিএফ
৬৫ কোম্পানি বিএসএফ
২০ কোম্পানি আইটিবিপি
১৯ কোম্পানি এসএসবি
১৬ কোম্পানি সিআইএসএফ
সব মিলিয়ে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী নিয়ে রাজ্যে তৈরি হচ্ছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়।
এসআইআর তালিকা প্রকাশের পরেই মোতায়েন
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। তার ঠিক পরদিন থেকেই শুরু হচ্ছে বাহিনী মোতায়েন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই অগ্রিম পদক্ষেপ।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং ভোট হয়েছিল আট দফায়। এ বার কত দফায় ভোট হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে বাহিনীর প্রাপ্যতার উপর। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এক দফাতেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিল্লিতে পাঠিয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট—ভোটের আগে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই অগ্রিম মোতায়েনই ইঙ্গিত দিচ্ছে, আসন্ন নির্বাচন হতে চলেছে উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে।



