নজরবন্দি ব্যুরোঃ আবেদনে কাজ হয়নি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর। এবার আরও বিড়ম্বনা বাড়ল তাঁর। আগেই রক্ষাকবচের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে সিবিআই চাইলে এখন পার্থকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে পারবে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, পার্থকে হেফাজতে জেরা করতে পারে সিবিআই। ওই রায়ের বিরুদ্ধেই ডিভিশন বেঞ্চে রক্ষাকবচের জন্য আর্জি করেছিলেন পার্থ।
আরও পড়ুনঃ এবার Group-C তে জামিন অযোগ্য ধারায় FIR সিবিআইয়ের, বিদেশ সফর বাতিল ববি-ব্রাত্যর।


শুক্রবার সকালে পার্থর আইনজীবীরা ডিভিশন বেঞ্চে জানান, সিবিআই যেন পার্থকে হেফাজতে না নিতে পারে। সেই আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। শুক্রবারের রায়ের পর পার্থের সিবিআই দফতরে হাজির হওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত স্কুল সার্ভিস নিয়োগ কেলেঙ্কারির তদন্ত ও মামলা সূত্রে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পত্তির হিসাব চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তারপর আজ আবার নতুন একটি এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই। সব মিলিয়ে এবার বেশ বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী।
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, জালিয়াতি। CBI-এর নয়া FIR-এ চরম বিপাকে পার্থ!

গ্রুপ সি মামলায় নতুন এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই। এফআইআরে নাম রয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের তৎকালীন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিন্হা, সমরজিত্ আচার্য-সহ ৫ জনের। এঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০(বি)(অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ৪১৭(প্রতারণা), ৪৬৫(জালিয়াতি) এবং ৩৪ নম্বর ধারায় মামলা। জামিনঅযোগ্য ৪৬৮ নম্বর ধারাতেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।



কিন্তু সিবিআইএর করা নতুন এফআইআরের ফলে কেন বিড়ম্বনা বাড়ল পার্থর? আসলে সিবিআইএর করা এফআইআরে সরাসরি নাম না থাকলেও যে উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে যামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর করা হয়েছে সেই কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আর সেকথা উল্লেখ করা হয়েছে এফআইআরে। অর্থাৎ পার্থ চট্টোপাধ্যের নাম সরাসরি না রাখা হলেও ঘুরিয়ে বড় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এরআগে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ২ টি এফআইআর করেছে সিবিআই। একটি মামলা হয়েছে নবম দশম শ্রেনীর নিয়োগ নিয়ে, অন্য মামলাটি হয়েছে পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতার ঘুরপথে নিয়োগ নিয়ে। সব মিলিয়ে চরম বিড়ম্বনার মুখে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।







