নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভোটের মুখে বড়সড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন দমদম উত্তরের বিজেপি প্রার্থী ডঃ অর্চনা মজুমদার। নিমতায় রাজনৈতীক হিংসার শিকার হয়েছিলেন বৃদ্ধা শোভা মজুমদার। তার মৃত্যুর পর ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে ছিলেন ডঃ মজুমদার। অভিযোগ, ওই সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করার পাশাপাশা নিজের প্রার্থী হওয়ার কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এর পরই তার প্রার্থীপদ বাতিল করার দবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ আক্রান্ত শোভা মহুমদারে বাড়িতে যান অর্জুন সিং ও শুভেন্দু অধিকারি-সহ বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব।
আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে সিবিআই দপ্তরে কয়লা পাচার কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত লালা।


তার পরই বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই বৃদ্ধাকে। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতিও হওয়ায় দিন চারেক আগে বাড়িতে ফেরেন তিনি। এর পর হঠাৎই রবিবার রাতে মৃত্যু হয় শোভা মজুমদারের। বৃদ্ধার ডেথ সার্টিফিকেটে অর্চনা মজুমদারের প্রার্থীপদ উল্লেখ করা ঘটনায় অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। স্বাভাবিক ভাবেই দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাবে শাসকদল। তৃনমূলের হাতের আক্রান্ত হয়েছিলেন বৃদ্ধা এবং তার ছেলে। আক্রান্ত হওয়ার প্রায় এক মাসের মাথায় মৃত্যু হয় তার।
তৃণমূলের দাবি, বয়স জনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু অর্চনা মজুমদার তার দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেটে উল্লেখ করেছেন, তৃণমূলের মারের জেরেই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার একমাস পরেও তার শরীরের ভিতরে ও বাইরে একাধিক গুরুতর আঘাত রয়েছে। দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ওই ঘটনার সাথে দলের কোন যোগ নেই। দীর্ঘ সময়ে ধরে অসুস্থ ছিলেন শোভা মজুমদার। শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। অসুস্থতার কারণের তার মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তররফে বলা হয়, বৃদ্ধাকে মারধরের ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এখনও আসেনি।
আর তার আগে এই ভাবে রিপোর্ট দেওয়া যায় না। প্রসঙ্গত, শোভা মজুমদারের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়িতে যান দমদম উত্তরের বিজেপি প্রার্থী। সেদিনই তিনি লেটারহেডে ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করেন, যেখানে প্রার্থী তার ‘রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৪৪৬৮৮।’ উল্লেখ করেছেন। তার সাথেই লখা আছে ‘প্রার্থী দমদম উত্তর বিধানসভা, ভারতীয় জনতা পার্টি।’ বৃদ্ধার মৃত্যুর কারণ বলা হয়েছে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ। এই ডেথ সার্টিফিকেট প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল। তাদের দাবি, ময়নাদন্তের আগেই শুধু মৃতদেহ দেখেই কি ভাবে মৃত্যুর কারণ করা যেতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, কোন রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া যায়না।









