নজরবন্দি ব্যুরো: কোনও বিবাহিত পুরুষ যদি স্ত্রীকে ডিভোর্সের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্য মহিলার সঙ্গে লিভ ইন করেন সেক্ষেত্রে তাঁকে প্রতারক বা প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত করা যায় না। একটি মামলার শুনানিতে এমনই সিদ্ধান্ত জানাল কলকাতা হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলেও ওই ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস করল হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন: Virat Kohli: গম্ভীর-বিরাটের ঝামেলা এখানেই শেষ নয়! ম্যাচের পর ইন্সটাতে বার্তা কোহেলির

লিভ ইন পার্টনারকে বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। তাঁর স্ত্রী মুম্বইতে থাকে। অভিযোগকারিণীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে তাঁকে বিয়ে করবেন, এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এরপর ওই ব্যক্তি ডিভোর্সের প্রক্রিয়া শেষ করতে মুম্বইয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্ত বদল করেন তিনি। অভিযোগকারী মহিলার কথায়, মুম্বই থেকে ফিরে আসার পর ওই ব্যক্তির মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পান তিনি। দম্পতির কন্যা সন্তানের উপর প্রভাব পড়বে এই ভেবে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিলেন।
বিবাহিত পুরুষ লিভ ইন করলেও প্রতারক নয়, বেকসুর খালাস অভিযুক্ত

সম্পর্কের শুরুতেই অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর লিভ ইন পার্টনারকে জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি বিবাহিত এবং তাঁর একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগকারী মহিলা সবটা জেনেই সম্পর্কে এসেছিলেন এবং স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি লিভ ইন পার্টনারকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা তাঁর বিয়ের ভাঙার উপর নির্ভর করছিল। আদালত জানায়, সম্পর্কের শুরু থেকেই অনিশ্চয়তা ছিল। অভিযোগকারী মহিলা সব জেনেই ঝুঁকি নিয়েছিলেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই ডিভোর্সের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়াকেও প্রতারণা হিসেবে ধরা যায় না।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে সব জানিয়েছিলেন। সবটা জেনেই অভিযোগকারী মহিলা রাজি ছিলেন। এরপর ১১ মাস দুজনে লিভ ইন সম্পর্কে ছিলেন। কিন্তু ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত বদলের পর ওই মহিলা প্রগতি ময়দান থানায় অভিযোগ জানান। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় এবং নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। ওই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় যার মধ্যে ৮ লক্ষ টাকা অভিযোগকারী মহিলাকে দিতে বলা হয়েছিল। তবে কলকাতা হাইকোর্ট নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়ে ওই ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস করে।



