সিঙ্গল মাদারদের অধিকারের লড়াইয়ে বড় জয়। সন্তানের পরিচয় শুধু বাবার নাম বা বংশের উপর নির্ভরশীল নয়—এ কথা স্পষ্ট করে দিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল Bombay High Court। আদালত জানিয়েছে, কোনও সন্তান যদি একলা মা-ই লালনপালন করেন, তবে স্কুলের সমস্ত নথিতে সেই সন্তান মায়ের নাম, পদবি এবং জাত (caste) ব্যবহার করতে পারবে। মাতৃপরিচয়কে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া দয়া নয়, বরং সাংবিধানিক অধিকার।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালে এক ১২ বছরের নাবালিকা ও তাঁর সিঙ্গল মাদার আদালতের দ্বারস্থ হন। জন্মের সময় সরকারি নথিতে বাবার নাম থাকলেও পরে ওই ব্যক্তি পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। এরপর মা একাই সন্তানের দায়িত্ব নেন।


মায়ের দাবি ছিল, স্কুলের নথিতে বাবার নাম ও পদবি বহন করা মেয়েটির জন্য সামাজিক ও মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু মহারাষ্ট্রের বীদ জেলার শিক্ষা আধিকারিক ২০২৫ সালের জুনে নাম ও জাত পরিবর্তনের আবেদন খারিজ করে দেন। সেই সিদ্ধান্তকেই হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি বিভা কঙ্কনওয়াড়ি এবং বিচারপতি হিতেন এস ভেনেগাওকরের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, যে বাবা সন্তানের জীবনে উপস্থিত নন, তাঁর পরিচয় জোর করে সন্তানের উপর চাপিয়ে দেওয়া সামাজিক বাস্তবতার পরিপন্থী।
আদালত কড়া ভাষায় বলে,
“সন্তানের পরিচয় শুধুমাত্র বাবার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে—এই ধারণা পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার অবশিষ্টাংশ।”


রাজ্য সরকার ‘সেকেন্ডারি স্কুল কোড’-এর নিয়মের কথা তুলে আপত্তি জানালেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। বেঞ্চ জানায়, প্রশাসনিক নিয়ম কোনওভাবেই একজন মায়ের মৌলিক অধিকার খর্ব করতে পারে না। ২০২৪ সালের সরকারি নির্দেশিকাতেও নথিতে মায়ের নাম অন্তর্ভুক্তির আইনি স্বীকৃতির কথা উল্লেখ রয়েছে।
জাত নির্ধারণেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
রায়ে আদালত আরও জানায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে সন্তানের জাত নির্ধারণ শুধুমাত্র জৈবিক বা পিতৃপরিচয়ের উপর নির্ভরশীল হতে পারে না। সন্তানের বাস্তব সামাজিক পরিবেশ ও অভিভাবকের পরিচয়কেও গুরুত্ব দিতে হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় শুধু একটি পরিবারের জয় নয়—বরং ভারতের বিচারব্যবস্থায় নারী অধিকার, অভিভাবকত্ব এবং সামাজিক পরিচয়ের ধারণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিশা দেখাল। সিঙ্গল মাদারদের সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনি মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।







