জাতীয় নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে বার্তা দিতে বড়সড় প্রতিশ্রুতির ঝুলি খুলল বিএনপি। দারিদ্র্য দূরীকরণ থেকে কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংস্কার—সব ক্ষেত্রেই নতুন পরিকল্পনার কথা জানাল তারেক রহমানের দল। শুক্রবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে প্রকাশিত ইস্তাহারে ৯টি মূল প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা বিএনপির দাবি অনুযায়ী ‘নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি’-র রূপরেখা।
ইস্তাহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রান্তিক মানুষের সুরক্ষা, কৃষি ও কর্মসংস্থানের উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সংস্কার এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এই ইস্তাহারে।


বিএনপির ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি:
১. ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে মাসে ২,৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ। পরে এই অঙ্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা।
২. কৃষক কার্ড: কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকি, ঋণ, কৃষিবিমা ও বাজারজাতকরণে সহায়তা। মৎস্যচাষি, পশুপালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।


৩. স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়ন: দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যপরিষেবা গড়ে তুলতে দেশজুড়ে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ।
৪. শিক্ষা সংস্কার: দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি, প্রাথমিক শিক্ষায় জোর, প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালুর পরিকল্পনা।
৫. তরুণদের কর্মসংস্থান: চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি, কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণ, স্টার্টআপ সহায়তা এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ।
৬. ক্রীড়া উন্নয়ন: জেলা ও উপজেলা স্তরে ক্রীড়া পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, খেলাধুলাকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা।
৭. পরিবেশ সুরক্ষা: ১০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পাঁচ বছরে ১৫ কোটি গাছ রোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু।
৮. ধর্মীয় সম্প্রীতি: সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য বিশেষ কল্যাণ প্রকল্প।
৯. ডিজিটাল অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থা (পেপাল) চালু, ই-কমার্স হাব গঠন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো।
বিএনপি জানিয়েছে, এই ইস্তাহার শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং নতুন রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন। দলটির দাবি, প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতেই তারা বিশ্বাসী। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই হবে তাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
দল আরও জানিয়েছে, জনগণের সমর্থন পেলে এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অবসান ঘটবে এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না।







