যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ডের রেশ এখনও কাটেনি। বছর ঘুরলেই টি-২০ বিশ্বকাপ, ম্যাচ হবে কলকাতাতেও। এই প্রেক্ষাপটে ইডেন গার্ডেন্সের নিরাপত্তা নিয়ে কী প্রস্তুতি—তা জানতে চাইলে কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভর্মা জানান, প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রাখা হবে।
এই নিরাপত্তা প্রসঙ্গই উঠে আসে বিজেপির যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে। সেখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এমন এক মন্তব্য করেন, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়।
ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, বাড়ল জল্পনা
ইডেনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকের প্রসঙ্গে শমীক বলেন, “জুন মাসে এই বৈঠক আবার হবে। বিরোধী দলনেতাকে সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখবেন।”
রাজ্যে ভোটের দামামা বেজে যাওয়ার আবহে এই মন্তব্যকে অনেকেই ভবিষ্যৎ ক্ষমতার বিন্যাসের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—শমীক কি জয়ের ব্যাপারে এতটাই নিশ্চিত? আর সেই সূত্রেই কি শুভেন্দু অধিকারীকেই মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে ইঙ্গিত?
দলীয় অবস্থান: ‘মুখের রাজনীতি নয়’
সাংবাদিকদের প্রশ্নে শমীক অবশ্য ব্যাখ্যা দেন, “বিজেপি মুখ বা মুখোশের রাজনীতি করে না। সরকার গঠিত হলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভায় থাকবেন—এটা নিশ্চিত।”
অর্থাৎ জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মুখ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার দাবি তিনি নাকচ করেন।
শুভেন্দুর ব্যাখ্যা: ‘সিম্বলিক’
এদিকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ইডেন-প্রসঙ্গে তাঁর উপস্থিতির কথা ‘সিম্বলিক’। পুলিশের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি বিষয়টি বলেছেন—এর বাইরে আলাদা কোনও রাজনৈতিক ইঙ্গিত নেই বলেই দাবি।


বঙ্গ বিজেপির আগের রীতি
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এনডিএ জোটে অনেক সময়ই বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মুখ ঘোষণা না করেই নির্বাচনে নামে—ব্যতিক্রম থাকলেও তা নিয়ম নয়। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনেও দলীয় মুখ হিসেবে মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই সামনে রেখেছিল বিজেপি। এবারও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপর জোরই দলের প্রধান কৌশল বলে মনে করছেন অনেকে।
তবু, শুভেন্দুকে পাশে রেখে শমীকের ওই মন্তব্যে নাগরিক মহলে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। মুখ নির্ধারণ না হলেও, ক্ষমতার সমীকরণে কার ভূমিকা কতটা—এই প্রশ্ন আপাতত রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে।









