অনেকেই ভাবেন, নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস আর ধূমপান-মদ্যপান থেকে দূরে থাকলেই হার্ট অ্যাটাকের ভয় থাকে না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বাইরে থেকে সুস্থ ও ফিট দেখালেও শরীরের ভেতরে নীরবে তৈরি হতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি, যা একদিন আচমকাই মারাত্মক আকার নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ মানুষ ‘সুস্থ’ বলতে বোঝেন ওজন ঠিক আছে, নিয়মিত হাঁটেন বা জিম করেন, বড় কোনও অসুখ নেই। কিন্তু হৃদযন্ত্রের সুস্থতা শুধুমাত্র এই বিষয়গুলির উপর নির্ভর করে না। রক্তনালিতে ধীরে ধীরে ফ্যাট জমা, কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ বা জিনগত কারণ—এসবই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।


অনেক সময় হৃদযন্ত্রের ধমনিতে ব্লক তৈরি হলেও তার কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে মানুষ নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ভাবেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি দেখা দিলে সেটাই হার্ট অ্যাটাকে পরিণত হতে পারে। তাই ভালো জীবনযাপন ঝুঁকি কমালেও সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেয় না।
বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে আগে হার্টের অসুখ, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও জরুরি। জিনগত কারণে অল্প বয়সেও হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যদিও বাইরে থেকে তা বোঝা যায় না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক এখন মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। উদ্বেগের বিষয়, আগের তুলনায় কম বয়সিরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস এর বড় কারণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।


কীভাবে সতর্ক থাকবেন
-
বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান
-
নিয়মিত কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও হার্ট সংক্রান্ত পরীক্ষা করুন
-
পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে বিশেষ নজর দিন
-
মানসিক চাপ কমাতে যোগ, ধ্যান বা নিয়মিত ব্যায়াম করুন
-
পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন
চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাক শুধু অসুস্থ বা বয়স্কদের সমস্যা নয়। বাইরে থেকে ফিট দেখালেও ভিতরে ঝুঁকি লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনতা ও সঠিক জীবনযাপনই সুস্থ হৃদয়ের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।







