মিঠুন-লকেট-রাহুল-অশোক-অনির্বাণ! রাজ্যসভার এক আসনে ৫ মুখের লড়াই বিজেপিতে!

বঙ্গ বিজেপির একমাত্র রাজ্যসভার আসন ঘিরে তীব্র টানাপড়েন। মিঠুন, লকেট, রাহুল সিনহা, অশোক লাহিড়ী ও অনির্বাণ—পাঁচ মুখের লড়াইয়ে বিভক্ত দল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রিলের রাজ্যসভা ভোট যত এগোচ্ছে, ততই তুঙ্গে উঠছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরের টানাপোড়েন। সিপিএমের আইনজীবী নেতা বিকাশ ভট্টাচার্য-র মেয়াদ শেষ হতেই বিরোধী কোটার একমাত্র আসনে কাকে পাঠানো হবে—তা নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র দড়ি টানাটানি। দিল্লির এক প্রভাবশালী লবি সরাসরি চাইছে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী-কে। কিন্তু তাঁর নাম ঘিরেই এবার বিজেপির অন্দরে পাঁচ মুখের লড়াই কার্যত প্রকাশ্যে।

আগামী এপ্রিল মাসে রাজ্যসভার মোট ৩৭টি আসনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসনে ভোট হবে। এই পাঁচটির মধ্যে চারটি আসনে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস-এর জয় প্রায় নিশ্চিত। ফলে বিরোধী বিধায়কদের কোটায় বিজেপির ঝুলিতে কার্যত একটি আসনই আসছে। ওই এক আসন ঘিরেই বিজেপির দিল্লি ও রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য চরমে।

দিল্লির একাংশের যুক্তি, রাজ্যজুড়ে জনপ্রিয় মুখ হিসেবে মিঠুনকে রাজ্যসভায় পাঠালে সংসদীয় মঞ্চের পাশাপাশি বিধানসভা ভোটেও তাঁকে পুরোদমে কাজে লাগানো যাবে। এমনকি ভবিষ্যতে রাজ্যে সরকার গঠনের পরিস্থিতি তৈরি হলে, দলীয় কোন্দলের আবহে মিঠুনকে ‘বিকল্প মুখ’ হিসেবেও তুলে ধরা যেতে পারে—এই কৌশলগত ভাবনাও ঘুরছে অন্দরের বৈঠকে। সে ক্ষেত্রে রাজ্যসভা সাংসদ থাকা তুলনামূলক নিরাপদ বলেই মনে করছে ওই শিবির।

তবে মিঠুন-নামে সবাই যে একমত, তা নয়। বিজেপির আর এক প্রভাবশালী লবি ফের সংসদে পাঠাতে চাইছে প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়-কে। দিল্লির নেতৃত্বের কাছে লকেট আস্থাভাজন—সাংসদ থাকাকালীন একাধিক রাজ্যে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন, প্রচারেও ছিলেন সক্রিয়। যদিও লকেট নিজে আগামী বিধানসভা ভোটে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর পুরনো কেন্দ্র হুগলিতে বিধানসভা আসনে জয় নিশ্চিত নয় বলেই অন্দরের আলোচনা।

এই দুই নামের বাইরেও তালিকা ক্রমশ লম্বা হচ্ছে। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা-র নাম প্রস্তাব করেছে দলের একাংশ, বিশেষ করে শমীক শিবির। পাশাপাশি উঠে এসেছে বালুরঘাটের বিধায়ক অশোক লাহিড়ী এবং অধ্যাপক-রাজনীতিক অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়-এর নামও।

প্রসঙ্গত, এক সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ই মিঠুনকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন। সারদা ও চিটফান্ড বিতর্কের আবহে পরে তিনি ইস্তফা দেন এবং বিজেপিতে যোগ দেন। সেই অতীত টানাপড়েনও এখন বিজেপির অন্দরের আলোচনায় ফিরে এসেছে।

সব মিলিয়ে, একটিমাত্র রাজ্যসভার আসনকে ঘিরে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে এখন পাঁচ মুখের লড়াই। দিল্লির ইচ্ছা, রাজ্যের বাস্তবতা আর ভবিষ্যৎ কৌশল—এই তিনের টানাপড়েনেই শেষ পর্যন্ত ঠিক হবে, রাজ্যসভায় কে যাচ্ছেন বঙ্গ বিজেপির হয়ে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত