কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেছে বোলপুর। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মানচিত্রে অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। নির্বাচন এলেই এখানে পারদ চড়বেই। আসন্ন নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। কারণ হিসেবে একাধিক ফ্যাক্টর আছে বলে দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। ইতিমধ্যেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি (BJP Candidate) এবং সিপিএম তাঁদের প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। ২৪-এর নির্বাচনে শেষ হাসি হাসবে কে?



আরও পড়ুন: ‘তদন্তকারী সংস্থাগুলি তদন্তের জন্য নয়’, কেজরীওয়ালের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বিজেপিকে আক্রমণ ‘পিকে’র
তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mandal) গড় বলেই পরিচিত বোলপুর। এই আসনে অসিত কুমার মালকে (Asit Kumar Mal) প্রার্থী করেছে শাসক শিবির। তিনিই বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের বিদায়ী সাংসদ। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী করেছে গৃহবধূ পিয়া সাহা (Piya Saha)। কলেজ জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। ২০১৫ সালে সাঁইথিয়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিজেপির পুরপ্রতিনিধি হন। ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সাঁইথিয়া থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু পরপর দুবারই পরাজিত হয়েছেন। বোলপুর কেন্দ্র দখলে লোকসভার ময়দানে পিয়া সাহাকেই ভরসা করল পদ্ম শিবির। একজন গৃহবধূর সাংসদ হওয়ার লড়াইয়ে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কর্মী-সমর্থকরা।

বোলপুরের বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণার পরই দলের অন্দরেই ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। একাংশই প্রার্থী বদলের দাবি করেছেন। যদিও তার পরোয়া না করেই প্রচারে নেমে পড়েছেন বিজেপির প্রার্থী। বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা (Anupam Hazra) তাঁকে ‘দুর্বল’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। অনুব্রত মণ্ডল বর্তমানে গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার হয়ে বাংলা থেকে দূরে দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দী। তাঁর অবর্তমানে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কিছুটা ব্যাকফুটে আছে বলেই দাবি বিরোধীদের। কেষ্টর অনুপস্থিতিতে গৃহবধূ পিয়া সাহা খেলা ঘোরাতে পারে কি না সেদিকেই নজর থাকবে। সিপিএম প্রার্থী করেছে শ্যামলী প্রধানকে। যদিও রাজনৈতিক হাওয়া বলছে, আসল যুদ্ধ হবে তৃণমূল বনাম বিজেপিতে।


দুবারের ‘পরাজিত’ গৃহবধূকেই ভরসা বোলপুরে, কেষ্টগড়ে কোন অঙ্কে জিততে চায় বিজেপি?

১৯৮৫ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বোলপুর সিপিএমের দখলে ছিল। ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরই পালাবদল হয়। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী অনুপম হাজরা ২ লক্ষের বেশি ব্যবধানে এই কেন্দ্র থেকে জয় পান। ২০১৯-এর নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বোলপুরে তৃণমূল প্রার্থী করে অসিত কুমার মালকে। বিজেপি প্রার্থী রামপ্রসাদ দাসকে ১ লক্ষ ৬ হাজার ৯৯৬ ভোটে হারিয়ে আসন দখলে রাখে ঘাসফুল শিবির। ২০২৪-এও সেই লক্ষ্যেই ভোটযুদ্ধে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে বিজেপিও এবার জয় নিয়ে আশাবাদী। শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানা যাবে আগামী ৪ জুন।








