কাঁধে কাঁধ রেখে লড়ার বার্তা শমীকের, তবুও ছন্দপতন, অস্বস্তি ঢেলে দিলেন সুকান্ত!

সায়েন্স সিটির মঞ্চে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিনেই দলে ঐক্যের ডাক, কিন্তু দিলীপ ঘোষকে বাদ দেওয়া ঘিরে স্পষ্ট বিভাজনের ইঙ্গিত

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বৃহস্পতিবার কলকাতার সায়েন্স সিটিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, সাংসদ ও কর্মী–সমর্থকের ভিড়ে হাততালি আর স্লোগানে মুখর ছিল প্রেক্ষাগৃহ। রবিশঙ্কর প্রসাদ শংসাপত্র তুলে দেন, বিদায়ী সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের হাত থেকে পতাকা নেন শমীক। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই দলের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক রদবদল।

সমাবেশে সুকান্ত মজুমদার ঘোষণা করেন, তিনি “কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে” নতুন সভাপতির পাশে থাকবেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও একই সুরে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি-কে স্বাগত জানান। কিন্তু বক্তৃতার মাঝে সুকান্ত বারবার ‘দিলীপদা’র অবদানের কথা তুললেও শুভেন্দু একবারও দীলিপ ঘোষের নাম উচ্চারণ করেন না—ঐক্যের সুরেই ছন্দপতন ঘটে।

প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিরা অসীম ঘোষ, রাহুল সিংহ উপস্থিত থাকলেও দিলীপ ঘোষের অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ‍দলের একটি অংশ প্রকাশ্যে অস্বস্তি জানালেও, অন্য অংশ বলছে—কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই নাকি আমন্ত্রণের বিষয়ে অনীহা দেখিয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি নিয়োগের দিনেই দিলীপকে উপেক্ষা দলের পুরনো ও নতুন নেতৃত্বের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট করল।

দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গিয়ে বিতর্কে জড়ান দিলীপ। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে গিয়েছেন বলে সুকান্তের মন্তব্য; শুভেন্দুও নীরব। পরের দিকে একাধিক দলীয় অনুষ্ঠানে ডাকা হয়নি দিলীপ ঘোষকে। তাই গুঞ্জন—বিজেপির ‘নবীন-প্রবীণ’ দ্বন্দ্ব ফের তীব্র হচ্ছে।

দায়িত্ব নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি ঘোষণা করেন, “সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নয়, বরং উন্নয়নই টার্গেট।” পাথর ফেলে কলম ধরানোর আহ্বান, দুর্গাপুজো-মহরম মিছিল পাশাপাশি হলেও সংঘর্ষশূন্য বাংলার স্বপ্ন দেখান। একই সঙ্গে তৃণমূলের চাকরি দুর্নীতি, কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রাখা সহ নানা ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানান।

শমীক ঘোষণা করেন, “২০০ পার নয়, তৃণমূলকে পরপারে পাঠাব।” বিজেপির রণকৌশলের মূল চাবিকাঠি—সংগঠনের নীচুতলা মজবুত করা, দলীয় কর্মীদের নিরাপত্তা, এবং বিভক্ত নেতা–শিবিরে ঐক্যের সেতু গড়া। শুভেন্দু ইতিমধ্যেই ২০২১–এর “৫৭ শহিদ” স্মরণ করে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে চাঙ্গা করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি-র কৌশল কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার।

সমাপনী ভাষণে শমীক বলেন, “পুরোনোরা মনে রাখবেন, নতুনেরা না এলে দল বাড়বে না; নতুনেরাও মনে রাখবেন, পুরোনোরা পতাকা ধরে রেখেছিলেন।” নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব মিটিয়ে নীচুতলা থেকে শীর্ষ পর্যন্ত ঐক্য গড়াই তাঁর প্রথম লক্ষ্য। এই ঐক্যের সূত্র ধরে ২০২৬-এর লড়াইয়ে কতটা ফল মিলবে, সেটাই বাংলায় বিজেপির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

একই মঞ্চে হাত মেলালেও বক্তৃতার সূক্ষ্ম ব্যবধানে দলের ভাঙন স্পষ্ট। তবু শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার মধ্য দিয়ে সংগঠনে রক্তসঞ্চালন শুরু হয়েছে। এখন দেখার, দিলীপ ঘোষ-সহ সব পক্ষকে একই কাতারে আনতে বিজেপি কতটা সফল হয় এবং ২০২৬-এর আগে ভোট-যুদ্ধের ময়দানে তারা কতটা শক্তি সঞ্চয় করে।

FAQ:

Q1: শমীক ভট্টাচার্য কবে বিজেপি রাজ্য সভাপতি হলেন?
A: ৩ জুলাই ২০২৫ বৃহস্পতিবার, সায়েন্স সিটিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

Q2: দিলীপ ঘোষ কেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না?
A: দলীয় সূত্রে দাবি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনিচ্ছা ও সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

Q3: নতুন সভাপতির প্রথম লক্ষ্য কী?
A: সংগঠনের নীচুতলা মজবুত করে নবীন-প্রবীণ নেতাদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়া।

Q4: শুভেন্দু অধিকারী কোন প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের নাম উচ্চারণ করেননি?
A: প্রাক্তন সভাপতিদের তালিকায় অসীম, রাহুল ও সুকান্তের নাম নিলেও দিলীপ ঘোষের নাম এড়িয়ে গিয়েছেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর