দেশজুড়ে বড়সড় অচলাবস্থার আশঙ্কা ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও কৃষক সংগঠনগুলির যৌথ ডাকে ওই দিন পালিত হবে ‘ভারত বন্ধ’। ফলে ব্যাঙ্ক পরিষেবা, সরকারি দপ্তর, গণপরিবহন ও বাজার-দোকান—সব ক্ষেত্রেই আংশিক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু রাজ্যে স্কুল-কলেজও বন্ধ থাকতে পারে।
এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ—INTUC, AITUC, HMS, CITU, AIUTUC, TUCC, SEWA, AICCTU, LPF এবং UTUC। সংগঠনগুলির অভিযোগ, গত বছর ২৯টি শ্রম আইন বাতিল করে যে চারটি নতুন শ্রম কোড চালু করা হয়েছে, তা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী। তাদের মতে, নতুন কোডে চাকরির নিরাপত্তা কমেছে, শ্রমিকদের অধিকার খর্ব হয়েছে এবং নিয়োগকর্তাদের পক্ষে কর্মী নিয়োগ ও ছাঁটাই আরও সহজ হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারিকরণ, মজুরি কাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।
ইউনিয়নগুলির দাবি, অধিকাংশ শিল্প ও ক্ষেত্রেই ধর্মঘটের নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। মূল দাবি, চারটি শ্রম কোড ও সংশ্লিষ্ট বিধি বাতিল করা। কৃষক সংগঠনগুলির একাংশও এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে, ফলে গ্রামীণ এলাকাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারি ব্যাঙ্ক পরিষেবায় আংশিক বিঘ্নের সম্ভাবনা রয়েছে। অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন, অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া তাদের সদস্যদের ধর্মঘটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘটের কারণে কিছু পরিষেবা প্রভাবিত হতে পারে। তবে অনলাইন ব্যাঙ্কিং ও এটিএম পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টা করা হবে।
সারা দেশে একযোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা নেই। তবে কেরল, কর্ণাটক ও ওডিশা-সহ কয়েকটি রাজ্যে পরিবহন ব্যাহত হলে বা স্থানীয় সংগঠনগুলির সমর্থনে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি।
কিছু এলাকায় বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ বা ‘চাকা জ্যাম’-এর কারণে বাস, ট্রেন ও অন্যান্য গণপরিবহন পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। বাজার ও দোকানপাট আংশিক বন্ধ থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলিতেও উপস্থিতি কমে যেতে পারে বা কিছু ক্ষেত্রে আংশিকভাবে কাজ বন্ধ থাকতে পারে।
তবে জরুরি পরিষেবা—হাসপাতাল, অ্যাম্বুল্যান্স, বিমানবন্দর ও প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি পরিষেবা—স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকে আগাম প্রয়োজনীয় কাজ সেরে রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



