দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আনা Public Examinations (Prevention of Unfair Means) (Amendment) Bill, 2024 লোকসভায় পাস হয়েছে। বিরোধীদের তুমুল আপত্তি ও ওয়াকআউটের মধ্যেই বুধবার ধ্বনি ভোটে বিলটি অনুমোদন পায়। এবার বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করা হবে।
সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং লোকসভায় বিলটি উত্থাপন করেন। পরবর্তী দু’দিন ধরে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিলের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অংশ নেননি।
বিল ঘিরে উত্তপ্ত লোকসভা
বুধবার বিল নিয়ে আলোচনার সময় লোকসভায় উত্তেজনা তৈরি হয়। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, দিল্লিতে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের আচরণ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে সংসদে বিবৃতি দিতে হবে।
তবে সেই সময় অমিত শাহ লোকসভায় উপস্থিত ছিলেন না। এরপরই ধ্বনি ভোটে বিলটি পাশের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভোটাভুটির সময় বিরোধী সাংসদরা ওয়াকআউট করেন। শেষ পর্যন্ত সরকারের পক্ষেই বিলটি গৃহীত হয়।
কেন আনা হল এই বিল?
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিক সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে চিকিৎসা শিক্ষার প্রবেশিকা পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্কের পর পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর আইন আনার দাবি জোরদার হয়।
সরকারের দাবি, নতুন সংশোধনী আইনের লক্ষ্য হল প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় কারচুপি এবং সংঘবদ্ধ প্রতারণার বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
কী কী শাস্তির প্রস্তাব?
নতুন বিলে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
- ব্যক্তিগতভাবে দোষী প্রমাণিত হলে ৩ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ₹১০ লক্ষ জরিমানা হতে পারে।
- কোনও পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকরা দোষী সাব্যস্ত হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
- সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ₹১ কোটি থেকে সর্বোচ্চ ₹১০ কোটি পর্যন্ত জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।
সরকারের মতে, এই আইন কার্যকর হলে পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা আরও বাড়বে এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যাবে।



