দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম রুখতে কেন্দ্র সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপের পথে। Public Examinations (Prevention of Unfair Means) (Amendment) Bill, 2026 ইতিমধ্যেই লোকসভায় ধ্বনি ভোটে পাস হয়েছে। এবার বিলটি রাজ্যসভায় অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলেই আইনে পরিণত হবে।
নিট-সহ একাধিক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কঠোর আইন আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই ২০২৪ সালের বিদ্যমান আইনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং লোকসভায় বিলটি পেশ করেন। দুই দিনের আলোচনার পর বিরোধীদের ওয়াকআউটের মধ্যেই বিলটি পাস হয়।
কী কী থাকছে নতুন সংশোধনী বিলে?
নতুন বিলে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় কারচুপি এবং সংগঠিত প্রতারণার বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
রাজ্য সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা
প্রত্যেক রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হবে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনও দায়রা আদালতকে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে, যাতে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচার সম্ভব হয়।
তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষের লক্ষ্য
প্রস্তাব অনুযায়ী, চার্জশিট জমা পড়ার পর তিন মাসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে দৈনিক ভিত্তিতে শুনানি চালানোরও নির্দেশ রয়েছে।
দু’মাসের মধ্যে তদন্ত
প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় তদন্তকারী সংস্থাকে দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্র সরকার বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করতে পারবে।
বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগ
এই আইনের আওতায় মামলাগুলি পরিচালনার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এক বা একাধিক বিশেষ সরকারি আইনজীবী (Special Public Prosecutor) নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হবে।
হাইকোর্টে আপিলের সুযোগ
বিশেষ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পক্ষ হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চে আপিল করতে পারবে। সেই আপিলও তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
কোন অপরাধে কত শাস্তি?
নতুন সংশোধনী বিলে শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি
- ন্যূনতম ৫ বছরের কারাদণ্ড
- সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড
- সর্বোচ্চ ₹৫০ লক্ষ জরিমানা
- সংগঠিত অপরাধ বা চক্রবদ্ধ প্রশ্নফাঁস
- ন্যূনতম ৭ বছরের কারাদণ্ড
- সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড
- সর্বোচ্চ ₹১০ কোটি জরিমানা
কেন প্রয়োজন এই সংশোধন?
২০২৪ সালে প্রথমবার কেন্দ্রীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম রুখতে আইন তৈরি হয়েছিল। সেই আইনের আওতায় UPSC, SSC, রেলওয়ে, ব্যাংকিং নিয়োগ পরীক্ষা এবং NTA পরিচালিত বিভিন্ন পরীক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সাম্প্রতিক প্রশ্নফাঁসের ঘটনাগুলির পর সরকার মনে করছে, শুধু আইন থাকলেই হবে না—দ্রুত তদন্ত, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার এবং আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকলে পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি পরীক্ষার্থীদের আস্থা আরও বাড়বে।



