পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষায় আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যসূচি, পাঠ্যবই এবং শিক্ষার কাঠামোতে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ব্যাপক পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন (Deepak Barman)। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, জাতীয় শিক্ষানীতি (National Education Policy বা NEP 2020)-র আলোকে নতুন পাঠ্যক্রম তৈরি করা হবে। তবে কোন কোন অধ্যায় বাদ যাবে বা নতুন করে যুক্ত হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
২০২৮ থেকেই কার্যকর হবে নতুন পাঠ্যসূচি
শিক্ষামন্ত্রী জানান, রাজ্যে এতদিন জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করা হয়নি। বর্তমান সরকার সেই নীতি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে এই পরিবর্তন ধাপে ধাপে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আপাতত পাঠ্যসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। শুধুমাত্র কিছু পরিমার্জন (revision) করা হবে। কিন্তু ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যসূচি ও বইয়ে আমূল পরিবর্তন আনা হবে।
নতুন সিলেবাসে কী থাকবে?
দীপক বর্মন জানান, নতুন সিলেবাস তৈরির দায়িত্ব সিলেবাস কমিটির উপরই থাকবে। কোন বিষয় বা অধ্যায় থাকবে, কোনটি বাদ যাবে—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিশেষজ্ঞ কমিটি।
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, নতুন পাঠ্যক্রম জাতীয় শিক্ষানীতির নির্দেশিকা মেনেই তৈরি হবে। অর্থাৎ পড়ুয়াদের বাস্তব জীবনের দক্ষতা, কর্মমুখী শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্বনির্ভরতার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জাতীয় শিক্ষানীতিতে কী কী পরিবর্তনের কথা রয়েছে?
NEP 2020 অনুযায়ী, স্কুল শিক্ষায় শুধু মুখস্থভিত্তিক পড়াশোনার বদলে দক্ষতাভিত্তিক (Skill-based) এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক (Experiential Learning) শিক্ষায় জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত পড়ার চাপ কমানো, বিষয় নির্বাচনে আরও নমনীয়তা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নতুন সিলেবাস তৈরি হবে।
কোন অধ্যায় বাদ যাবে?
এ মুহূর্তে কোনও নির্দিষ্ট অধ্যায় বাদ যাচ্ছে বা নতুন কোনও বিষয় নিশ্চিতভাবে যুক্ত হচ্ছে—এমন ঘোষণা সরকার করেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে ইতিহাস বা অন্যান্য বিষয়ের পাঠ্যসূচি নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়বস্তুর পরিবর্তন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সিলেবাস কমিটি এবং সরকার সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করবে।
অর্থাৎ, মুঘল ইতিহাস, ইসলামিক ইতিহাস বা অন্য কোনও অধ্যায় বাদ পড়বে—এ ধরনের দাবি সম্পর্কে এখনও সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
আগামী দুই বছরে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ, নতুন পাঠ্যক্রমের খসড়া এবং পাঠ্যবই তৈরির কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত ছবি স্পষ্ট হবে।



