রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প ‘কন্যাশ্রী’ এবং ‘সবুজ সাথী’-র নাম পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, কন্যাশ্রী প্রকল্পের নতুন নাম হবে ‘কন্যারত্ন’ এবং সবুজ সাথী প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘সারথী’।
তবে নাম পরিবর্তন হলেও প্রকল্পগুলির সুবিধা বন্ধ হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীদের জন্য চালু থাকা সমস্ত সুযোগ-সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকবে।
নবান্নে কী ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী?
একটি সরকারি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “১৪ আগস্ট যে কন্যাশ্রী দিবস পালন করা হত, তা এবারও হবে। তবে নতুন নামে, অর্থাৎ ‘কন্যারত্ন’ দিবস হিসেবে পালন করা হবে। এছাড়াও সবুজ সাথী প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘সারথী’ রাখা হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য যা করার, সরকার তা করবে।”
এই ঘোষণার মাধ্যমে রাজ্যের দুটি বহুল পরিচিত প্রকল্পের নতুন নাম আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এল।
কী ছিল কন্যাশ্রী প্রকল্প?
২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছিলেন। মেয়েদের শিক্ষার প্রসার, স্কুলছুট কমানো এবং বাল্যবিবাহ রোধের লক্ষ্যেই এই প্রকল্প শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে এটি দেশের অন্যতম সফল সামাজিক প্রকল্প হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারও অর্জন করেছে।
বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায়—
- ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি যোগ্য ছাত্রীরা বছরে ₹১,০০০ করে অনুদান পান।
- ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর এবং অবিবাহিত থাকলে এককালীন ₹২৫,০০০ দেওয়া হয়।
- উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর স্তরে বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের ছাত্রীদের জন্যও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
সরকারের নতুন ঘোষণায় এই আর্থিক সুবিধাগুলির কোনও পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি। আপাতত শুধুমাত্র প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
সবুজ সাথী এখন ‘সারথী’
ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল বিতরণ কর্মসূচি সবুজ সাথী-র নামও পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন নাম হবে ‘সারথী’।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়া হয়, যাতে দূরের স্কুলে যাতায়াত সহজ হয় এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সুবিধা হয়।
সুবিধা বহাল থাকবে
নাম পরিবর্তন নিয়ে জল্পনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রকল্পগুলির কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। সরকারের লক্ষ্য ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ও কল্যাণমূলক পরিষেবা অব্যাহত রাখা। ফলে নতুন নামে হলেও প্রকল্পগুলি আগের মতোই চালু থাকবে।



