রাজ্যের প্যারা টিচারদের (Para Teachers) জন্য বড় সুখবর। চলতি বছরের বাজেটে ঘোষিত বেতন বৃদ্ধি আগামী অগাস্ট মাস থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর ফলে রাজ্যের ৪২,১৯২ জন প্যারা টিচার মাসিক সম্মানিকের সঙ্গে অতিরিক্ত ₹৫,০০০ করে পাবেন।
বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৪২,১৯২ জন প্যারা টিচারের মাসিক সম্মানিক এই বাজেটে ₹৫,০০০ বাড়ানো হয়েছে। অগাস্ট মাস থেকেই তা কার্যকর করা হবে।” অর্থাৎ, আগামী মাস থেকেই বর্ধিত হারে সম্মানিক তাঁদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছতে শুরু করবে।
বাজেট ঘোষণার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন
এ বছরের রাজ্য বাজেট পেশের সময়ই অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত প্যারা টিচারদের সম্মানিক বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিলেন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হল, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতে চলেছে অগাস্ট থেকেই।
আরও ৩৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা
শুধু প্যারা টিচারদের বেতন বৃদ্ধি নয়, সরকারি স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, আগে থেকে প্রক্রিয়াধীন ১২ হাজার নিয়োগের পাশাপাশি আরও ৩৮ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ করা হবে ধাপে ধাপে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “স্কুল সার্ভিস কমিশনে রাজনৈতিক নিয়োগের সংস্কৃতি বন্ধ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে নিয়োগ হবে। বাকি ১২ হাজার নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পর আরও ৩৮ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।”
স্কুল পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এখনও অনেক সরকারি স্কুলে বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ বা পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। সেই সমস্যা দূর করতে সরকার একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- স্কুলে সোলার প্যানেল বসানোর পাইলট প্রকল্প।
- গ্যাসের মাধ্যমে মিড-ডে মিল রান্না।
- পুরুলিয়া, বাঁকুড়াসহ রাঢ়বঙ্গের স্কুলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্যান বসানো।
- মিড-ডে মিল কর্মীদের সম্মানিকও আগামী মাস থেকে ₹১,০০০ বৃদ্ধি।
কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় ও সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিটি জেলায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় (Kendriya Vidyalaya) স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে প্রস্তুত রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই পাঁচটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের জন্য জমি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এছাড়া সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও স্থানান্তরের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে এবং সংস্কৃত ভাষার প্রসারে আরও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।



