নজরবন্দি ব্যুরোঃ উচ্ছেদ করা চলবে না। বাঙালীর মিছিল নিয়ে গোবরডাঙার রাস্তায় বাংলা পক্ষ। কেন্দ্রের রেল মন্ত্রককে বাংলা পক্ষর চ্যালেঞ্জ – বাংলার গোবরডাঙায় বাঙালীকে উদ্বাস্তু করার আগে ব্যারাকপুর আসানসোলে বহিরাগতদের দখলমুক্ত করুন। বাংলা পক্ষর অভিযোগ বাংলার মাটিতে ১০০% বাঙালীর এলাকা উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙায় শতাধিক বাঙালীকে উদ্বাস্তু করার চক্রান্ত করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারের হিন্দিভাষী রেল পুলিশ চক্র। বাংলা জুড়ে যে কোন কেন্দ্রীয় সরকারি জমি মানেই হিন্দি বলয়ের রাজ্যের মানুষের জবরদখল করার এলাকা – এটা প্রায় নিয়ম হয়ে গেছে, তা আসানসোল বা হুগলী বা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল হোক বা কলকাতার বন্দর এলাকা।
আরও পড়ুনঃ দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি।


এই সব এলাকা ক্রমে বহিরাগতদের ঘাঁটি এলাকায় পরিণত হয় এবং আশপাশের এলাকায় বাড়ে সংগঠিত মাস্তানি ও অপরাধ। ফলে এলাকা থেকে বাঙালী ভূমিপুত্ররা ক্রমে নির্মূল হয়ে যায়। রেল কখনো এই বাংলার মাটি দখল করা বহিরাগতদের জবরদখল সরায় না। কিন্তু সামান্য কিছু জায়গায় যেখানে বাঙালী ঘর বানিয়েছে বাংলার মাটিতে, যেমন লেক বস্তি বা গোবরডাঙা, সেখানে বারবার নেমে আসে দিল্লীর আক্রমণ।
প্রায় ৩ পুরুষ ধরে গোবরডাঙায় বাস করা এমন অনেক পরিবারের শতাধিক বাঙালিকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে উদ্বাস্তু করার চক্রান্ত করছে বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারের রেল দফতর। কালীপুজোর আগেরদিন গোবরডাঙার এই নিপীড়িত বাঙালীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের উদ্বাস্তু না হতে দেওয়ার লড়াই শুরু করল বাংলা পক্ষ। বাংলা পক্ষর উত্তর ২৪ পরগনা গ্রামাঞ্চল জেলা কমিটির সম্পাদক রাজদীপ ঘোষের নেতৃত্বে বাংলা পক্ষর সদস্যদের একটি বড় দল রেল পুলিশের দ্বারা উদ্বাস্তু হওয়ার জন্য টার্গেট করা বাঙালী পরিবারদের কাছে যায়।
উচ্ছেদ করা চলবে না। বাঙালীর মিছিল নিয়ে গোবরডাঙার রাস্তায় বাংলা পক্ষ। সেই বাঙালীরা ব্যক্ত করে তাদের ভয়াবহ অবস্থার কথা। তাঁরা জানান যে প্রায় ৪০ জন অস্ত্রধারী হিন্দিভাষী রেল পুলিশ এসে তাদের বাড়ি ঘর সব ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়ে গেছে এবং কালীপুজোর পরে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তারা ফের হানা দিয়ে এই বাঙালীদের টার্গেট করে এই বাংলার মাটিতে তাদের কয়েক প্রজন্মের ঘর থেকে উচ্ছেদ করবে। রত্না মন্ডল, ব্রহ্মানন্দ মুখোপাধ্যায়, শুভব্রত বন্দোপাধ্যায় সহ জেলা বাংলা পক্ষর সহযোদ্ধারা পুরো এলাকা পরিদর্শন করে, নিপীড়িত বাঙালী পরিবারদের সাথে কথা বলে, লড়াইয়ের মাধ্যমে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেয় এবং বিপদে আপদে যোগাযোগ করার জন্য একাধিক স্থানীয় বাংলা পক্ষ সহযোদ্ধাদের নম্বর দেয়। সেই এলাকায় শত শত বাঙালীর বাস যাদের টার্গেট করে এই শীতকালে, করোনা মহামারীর মাঝে উদ্বাস্তু করে মাথার উপরের ছাদ কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে বাঙালী বিরোধী কেন্দ্রীয় সরকারের রেল মন্ত্রক।


ঐ দিনই গোবরডাঙা স্টেশনের পাশে বাংলা পক্ষ একটি পথসভা করে যা অচিরেই জনসভায় পরিণত হয় এলাকার বাঙালীর সমর্থনে। সভায় বাংলা পক্ষ রেল মন্ত্রককে চ্যালেঞ্জ করে যে ক্ষমতা থাকলে ইউপি বা বিহারে বা বাংলার “ইউপি-বিহার”-এ পরিণত হওয়া এলাকা যেমন আসানসোল, রানীগঞ্জ, খড়্গপুর, টিটাগড়, ব্যারাকপুর, রিষড়া, নৈহাটি, হাওড়া, সালকিয়া, পার্ক সার্কাস ইত্যাদি এলাকার রেলের জমি থেকে একজন বহিরাগতকেও উচ্ছেদ করে দেখাক রেলের হিন্দিভাষী পুলিশ, বাংলা থেকে বাঙালীদের উচ্ছেদ করার আগে। বাংলা পক্ষ দাবি করে বাঙালীকে উদ্বাস্তু থেকে নাগরিক না, নাগরিক থেকে উদ্বাস্তু বানানোর চক্রান্তে নেমেছে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীরা।
এবং বাংলাকে চিরকাল বাঙালীর মালিকানাধীন রাখার একমাত্র পথ বাঙালী জাতীয়তাবাদ। রেল টিকিটে বাংলা ভাষা ফেরানো, রেলে বাঙালী হকার ও বাঙালী যাত্রীদের উপর হিন্দিভাষী রেল পুলিশের টার্গেট করে অত্যাচারের প্রতিবাদ – এই সব লড়াই করে আসছে বাংলা পক্ষ। সম্প্রতি হাওড়ার বহিরাগত ডিআরএম দাবি করেছে যে বাংলায় মানুষকে বাংলায় তথ্য প্রদান করার কোন নিয়ম নেই। এই কথাটা মহারাষ্ট্রে বা তামিল নাড়ুতে কারুর বলার সাহস হতো না। বাংলাকে সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে প্রায় এক শত বাঙালীর মিছিল নিয়ে বাংলা পক্ষ গোবরডাঙার রাস্তায় মিছিল করে। স্লোগান ওঠে – “তুমি কে, আমি কে, বাঙালী, বাঙালী”, “জয় বাংলা”, ইত্যাদি।







