বেলডাঙা অশান্তিতে নতুন মোড়, CCTV ও সোশাল মিডিয়ার সূত্রে গ্রেপ্তার আরও ৫, মোট ধৃত ৩৬

বেলডাঙা অশান্তি কাণ্ডে সোশাল মিডিয়া ও সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার আরও পাঁচজন। মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬, তদন্তে কড়া পুলিশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ঝাড়খণ্ডে এক শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে অশান্তির আগুন ছড়িয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি নিভেনি। বরং তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নাম। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলডাঙা কাণ্ডে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৬-এ।

পুলিশ জানিয়েছে, সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং এলাকার একাধিক CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখেই এই পাঁচজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধৃতদের নাম—নূর আলম, রবিউল ইসলাম, নূর আলম মোল্লা, লাদিম শেখ এবং তুফাইল শেখ। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁদের বহরমপুর আদালতে তোলা হবে।

উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার এক সংখ্যালঘু যুবকের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই গত শুক্রবার উত্তাল হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। উত্তেজিত জনতা প্রথমে পথ অবরোধ, পরে ট্রেন অবরোধে নামে। বিভিন্ন জায়গায় চলে ভাঙচুর। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে।

শুক্রবারের পর শনিবারও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। জাতীয় সড়ক অবরোধ, ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়া, ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। দিনভর উত্তপ্ত থাকে গোটা এলাকা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরাসরি রাস্তায় নামেন মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ। সেদিনই তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন,
“কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের CCTV ফুটেজ ও ভিডিও দেখে শনাক্ত করা হবে। যেখানেই থাকুক, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে।”

তারপরই শুরু হয় ধারাবাহিক ধরপাকড়। এর মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় এক রাজনৈতিক নেতাকেও—বেলডাঙা ১ ব্লকের মিম সভাপতি মতিউর রহমান। তাঁর পর আরও একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এই ঘটনার প্রভাব পৌঁছেছে আদালত পর্যন্ত। বেলডাঙার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট-এ দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আদালত সূত্রে খবর।

এদিকে নতুন করে পাঁচজন গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। অশান্তিতে যাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

বেলডাঙা এখন তুলনামূলক শান্ত হলেও প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত। পুলিশের কড়া বার্তা—আইন হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে তার ফল ভোগ করতেই হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন