নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভোটের আগে ব্যাপক হারে দলভারী করছে বিজেপি, কৌশল নাকি অসন্তোষ ভাবাচ্ছে মানুষকে। ভোটের ঠিক মুখেমুখেই রাজ্যের শাসক দল থেকে একে একে পদত্যাগ করছেন একাধিক নেতামন্ত্রী। সাথে সাথে দল থেকে সরছেন একাধিক ছাত্র নেতা-নেত্রীরা।তাহলে কী দলের থেকে হঠাতই আস্থা সরছে সবার, নাকি ভোটের মুখে দলভারী করতে তৃণমূলের ঘর ভাঙাচ্ছে বিজেপি? এই প্রশ্নই এখন সবার মনে।
বাংলায় তৃণমূল ক্ষমতায় আছে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে, অল্প-বিস্তর মনকষাকষি নিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে একত্রিত ভাবে চলছিল। পাশে দাঁড়িয়ে এতদিন ধরে সমান ভাবে চলছিল তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন। এবার ভাঙ্গন সেখানেও। একেকদিনে একঝাক তরুন কর্মী যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে, কেউ শুধুই দলত্যাগ করছেন। কার গলায় অভিমান,কেউ ফুঁসছেন রাগে।
আজ বুধবার দলীয় বৈঠকে বিজেপিতে যোগ দেন একাধিক দলীয় কর্মী সহ একঝাঁক ছাত্রনেতানেত্রী। চাকদাহ এর চান্দুরিয়ার প্রাক্তন সভাপতি বিদেশ রঞ্জন বিশ্বাস ,পঞ্চায়েত সদস্য প্রাভাস চন্দ্র তা,মিল, চান্দুরিয়ার তৃণমূল কংগ্রেস এর জেনারেল সেক্রেটারি বজ্রুল ভাঙ্গি, তৃণমূল যুব কংগ্রেস নেতা প্রাতুল কুমার ব্যানার্জী, সুমন বিশ্বাস, সৌমজিত বিশ্বাস, সুব্রত খান,পারিতোশ মণ্ডল, পঞ্চায়েত কর্মাধক্ষ্য প্রিতি মণ্ডল এবং INTUCA এর প্রাক্তন সভাপতি গোবিন্দ বিশ্বাস।অপরদিকে কাঁদি পৌরসভার ১২নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবজ্যোতি রয়,২০১৫-২০১৯ এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান শান্তনা রায়।
মহানগরের সংগঠন থেকেও ভাঙছে দল,৯৬ নম্বর ওয়ার্ডের জিত পাল, ৮৬নম্বর ওয়ার্ডের কাবির রানা। মধ্যমগ্রাম OBC ধর্মগুরু প্রিতাম অধিকারি,আমিত কুমার মণ্ডল, DG WORKER’S UNION এরমাধাব চন্দ্র বেরা।দক্ষিন বঙ্গেও অব্যাহত এই দলের ভাঙ্গন।বর্ধমানের এসএফাআই সহ সম্পাদক সউমেন কাফরা বিজেপিতে এসেছেন আজ। বাঁকুড়াতেও অবস্থা একই ।দীর্ঘ কানাঘুষোর পর অফিসিয়ালি বিজেপিতে যোগ দিলেন মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ ছাত্রনেতা সুজিত শাম।তার সাথে বিজেপির দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে দলে জান বাঁকুড়া তৃণমূল ছাত্রপরিষদের প্রাক্তন সভাপতি চুমকি ব্যনার্জী। তাঁদের সাথেই এদিন বিজেপিতে যোগ দেন সিটি কলেজের প্রাক্তন সাধারণ স্পম্পাদক কুশাল কান্তি রায়।ন
ভোটের আগে ব্যাপক হারে দলভারী করছে বিজেপি, কৌশল নাকি অসন্তোষ ভাবাচ্ছে মানুষকে। শুধুমাত্র একদিনের রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সম্পাদক মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন তাঁরা। হঠাত বিভিন্ন দল থেকে বিজেপিতে এই জনসমাগমকে নিয়ে যুক্তি সাজাচ্ছে নানামহল। একদল বলছে দল ভাঙাচ্ছে বিজেপি, একদল বলছে দীর্ঘ অসন্তোষের ফল। কারন যাইহোক না কেন, ভোটের আগে বাংলায় আচমকাই দল ভাঙ্গিয়ে বা কৌশলে দল ভারী করতে সফল বিজেপি। অপেক্ষা এখন ২১-এর ভোটের ফলাফল। মানুষ আসলে চাইছেন কাকে জানা যাবে তখনই।



