ভারতের মাটিতে প্রথমবার সিরিজ হার—আর তাতেই কড়া বার্তা দিল বোর্ড। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে ব্যর্থতার পর নেতৃত্ব, ফর্ম ও দায়বদ্ধতা—সবকিছুরই পরীক্ষা শুরু করে দিল BCCI। তারই অঙ্গ হিসেবে ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিল ও সিনিয়র অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা—দু’জনকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে কার্যত ‘শাস্তি’ হিসেবেই দেখছে ক্রিকেটমহল।
এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বড় কোনও পরিবর্তন না হলে ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা রনজি ট্রফিতে গিল ও জাদেজার খেলা প্রায় নিশ্চিত। গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হবে পাঞ্জাব বনাম সৌরাষ্ট্র—অর্থাৎ দুই তারকা খেলবেন একে অপরের বিরুদ্ধে। বোর্ডের বার্তা স্পষ্ট: আন্তর্জাতিক ব্যর্থতার পর পারফরম্যান্স ফিরুক ঘরোয়া মঞ্চে।


এই মরশুমে এখনও পর্যন্ত রনজিতে নামেননি গিল। শেষবার তিনি পাঞ্জাবের জার্সিতে খেলেছিলেন গত মরশুমে, কর্নাটকের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, জাদেজা চলতি মরশুমে সৌরাষ্ট্রের হয়ে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছেন। কিউয়িদের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ কিংবা বিশ্বকাপের দল—কোনোটাতেই তাঁদের রাখা হয়নি। ফলে আইপিএলের আগে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ বলতে রনজির গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোই তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় সুযোগ।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে গিলের ব্যাট থেকে এসেছে ৫৬, ৫৬ ও ২৩ রান। সংখ্যাগুলো খুব খারাপ না হলেও অধিনায়ক হিসেবে প্রশ্ন উঠছে তাঁর প্রস্তুতি নিয়ে। আগের প্রজন্মে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি কিংবা এম এস ধোনি—মাঠে নেতৃত্ব দিয়েছেন, দলকে উজ্জীবিত করেছেন এবং রানও করেছেন। গিল আপাতত সেই দু’দিকের কোনওটাই ধারাবাহিকভাবে দেখাতে পারছেন না—এই অভিযোগই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
জাদেজার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন কম নয়। ৩৭ বছর বয়সি অলরাউন্ডার তিন ম্যাচে ২৩ ওভার বল করে ১৪১ রান দিয়েছেন, উইকেটশূন্য থেকেছেন। ব্যাট হাতে করেছেন মোটে ৪৩ রান। এই পারফরম্যান্সের পর তাঁর ওয়ানডে ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হওয়াটা স্বাভাবিক। বেঞ্চে অপেক্ষায় রয়েছেন অক্ষর প্যাটেল—যিনি সুযোগ পেলেই প্রভাব ফেলতে প্রস্তুত।


নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের পর বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত তাই শুধু ‘শাস্তি’ নয়, বরং স্পষ্ট বার্তা—আন্তর্জাতিক দলে জায়গা ধরে রাখতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে প্রমাণ দিতেই হবে।







