বসিরহাটে চাঞ্চল্য! একসঙ্গে ৩৪০ বিচারাধীন ভোটারেরই নাম মুছে দিল কমিশন, বাদ বিএলও-ও!

বসিরহাট উত্তর বিধানসভার একটি বুথে বিচারাধীন ৩৪০ ভোটারের নাম একযোগে ডিলিট, এমনকি বিএলও-ও বাদ—নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বসিরহাট উত্তর বিধানসভায় নজিরবিহীন ঘটনা—একটি বুথে বিচারাধীন থাকা ৩৪০ জন ভোটারের প্রত্যেকের নামই একযোগে মুছে গেল সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা থেকে। শুধু সাধারণ ভোটারই নন, বাদ পড়েছেন সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও-ও। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক এবং অনিশ্চয়তা।

সোমবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন ২০২৬ সালের সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। তবে ৬০ লক্ষ আবেদন থেকে কতগুলি নিষ্পত্তি হয়েছে বা কতজনকে বৈধ ভোটার হিসেবে রাখা হয়েছে—এই সংক্রান্ত কোনও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এরই মধ্যে বসিরহাট উত্তর বিধানসভার ৫ নম্বর পার্টের তথ্য সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়।

প্রকাশিত তালিকা খতিয়ে দেখে জানা গেছে, ওই পার্টে বিচারাধীন থাকা ৩৪০ জনের প্রত্যেকের নামই ডিলিট করা হয়েছে। আরও বিস্ময়ের বিষয়, একই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ওই বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও মহম্মদ সফিউল আলমও।

এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সফিউল আলম জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ভোটারদের অধিকাংশের নথি যথাযথভাবে জমা পড়েছিল এবং ডিজিটাইজডও করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “যাঁরা আবেদন করেছিলেন, তাঁদের অধিকাংশের কাগজপত্র ঠিক ছিল। কিছু ক্ষেত্রে গাইডলাইন মেলেনি, কিন্তু সবাইকে একসঙ্গে বাদ দেওয়ার কারণ বুঝতে পারছি না।”

তিনি আরও জানান, সমস্ত প্রক্রিয়া—হিয়ারিং, অ্যাডজুডিকেশন এবং সংশ্লিষ্ট নথি জমা—সম্পন্ন হওয়ার পরই এই তালিকা প্রকাশিত হয়। মঙ্গলবার হাতে হার্ডকপি পাওয়ার পরই তিনি দেখেন, একটিও নাম তালিকায় নেই।

এই পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগে রয়েছেন বাদ পড়া ভোটাররা। অনেকেই বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, তাঁর পক্ষেও এখন কিছু করা সম্ভব নয়। অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি উচ্চপদস্থ নির্বাচন আধিকারিকদের জানানো হলেও তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে না।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিকার হিসেবে ২৩টি জেলার জন্য ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা বিষয়টি দেখবেন।

যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের অনলাইন বা অফলাইনে আবেদন করে আপিল জানাতে হবে। অফলাইনে জেলা প্রশাসনের দফতরে এবং অনলাইনে নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। খুব শীঘ্রই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।

তবে একসঙ্গে ৩৪০ জন বিচারাধীন ভোটারের নাম মুছে যাওয়ার ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর