দীর্ঘ তিন বছর পর রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলির জন্য বড় আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যের ৮০,৩৭৫টি সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলের জন্য মোট ₹২৯৬ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে। কম্পোজিট স্কুল গ্র্যান্ট ফান্ড (Composite School Grant Fund)-এর মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হবে, যা স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
নবান্নে বুধবার আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে টানা তিন বছর বহু সরকারি স্কুল প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। নতুন সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে বদ্ধপরিকর এবং কেন্দ্রের সহযোগিতায় শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি স্কুলকে বেসরকারি স্কুলের সমতুল্য করার লক্ষ্য
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নত না হলে অভিভাবকদের একাংশ বাধ্য হয়ে বেসরকারি স্কুলের দিকে ঝুঁকবেন। তাই সরকারি স্কুলগুলিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সমৃদ্ধ করাই সরকারের লক্ষ্য।
তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার মান উন্নয়ন, স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই সরকার পরিকল্পনা করছে।
উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার বেড়েছে
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার বেড়েছে। মেধার ভিত্তিতে দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সময়মতো কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ হয়েছিল, যার ফলে বহু মেধাবী পড়ুয়া রাজ্যের বাইরে পড়াশোনা করতে বাধ্য হতেন।
শিক্ষায় একাধিক আধুনিক প্রকল্প
সরকারি স্কুলগুলিকে আধুনিক করে তুলতে একাধিক প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান—
- পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পোর্টালের মাধ্যমে ডিজিটাল ও অডিও-ভিজ়ুয়াল শিক্ষার প্রসার।
- দীক্ষা (DIKSHA) প্ল্যাটফর্মে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ লক্ষ শিক্ষক নথিভুক্ত হয়েছেন এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
- ১,০০০টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে অটল টিঙ্কারিং ল্যাব (Atal Tinkering Laboratory) গড়ে তোলা হবে।
- ৮০০টি স্কুলকে PM SHRI প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
- প্রান্তিক এলাকার স্কুলগুলিতে সোলার প্যানেল, ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্যাসে মিড-ডে মিল রান্না, পানীয় জল, নতুন শৌচালয় এবং প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ফ্যান বসানোর কাজও ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সমন্বয়ের পরিকল্পনা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) আলোকে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ভারতীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালন সমিতিতে অভিভাবকদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো হবে।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী শীঘ্রই রাজ্যে আসবেন। শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া প্রতিটি জেলায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় (Kendriya Vidyalaya) স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমিও রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করেছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।



