মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে না দেওয়া নিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদলাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সাম্প্রতিক উত্তপ্ত মন্তব্যের পর বাস্তবতাকে সামনে রেখে Bangladesh Cricket Board (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে—International Cricket Council (আইসিসি)-কে পাঠানো চিঠিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে সরানোর কোনও দাবি রাখা হবে না।
সূত্রের খবর, আইসিসিকে লেখা চিঠিতে কেবল ভারতে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হতে পারে। কী কী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চাওয়াই হবে মূল উদ্দেশ্য। ভেন্যু বদলের অনুরোধ সেখানে থাকবে না।


কেন সুর নরম?
আইপিএলে Mustafizur Rahman-কে খেলতে না দেওয়ায় বিসিবি ক্ষুব্ধ হলেও, Board of Control for Cricket in India (বিসিসিআই)-এর মতো শক্তিশালী বোর্ডের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার সীমাবদ্ধতা তারা মেনে নিয়েছে। বিসিবি সভাপতি Aminul Haque Bulbul-ও প্রকাশ্যে সেই বাস্তবতার কথা স্বীকার করেছেন।
এর আগে বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা Asif Nazrul সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতে দল না পাঠানোর কথাও বলেন। তাঁর যুক্তি ছিল—চুক্তিবদ্ধ হয়েও যখন একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে পারেন না, তখন গোটা দলের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
শেষ মুহূর্তে বোধোদয়
তবে শেষ পর্যন্ত বিসিবি বুঝেছে—বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক মাসও নেই। এই সময়ে একাধিক ম্যাচের ভেন্যু বদল করা প্রশাসনিক ও সম্প্রচারগতভাবে কার্যত অসম্ভব। প্রতিপক্ষ দলগুলির ফ্লাইট, হোটেল বুকিং, প্রতিদিনের ম্যাচ সূচি—সবই আগেই চূড়ান্ত।


ভারতীয় বোর্ডের অন্দরের বক্তব্যও পরিষ্কার—ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছায় বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট চলে না। দিনে তিনটি করে ম্যাচের কাঠামোতে নতুন করে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরালে সম্প্রচারে বড় সমস্যা তৈরি হবে।
রাজনৈতিক চাপ বনাম ক্রিকেট বাস্তবতা
রাজনৈতিক চাপ ও ক্রিকেটপ্রেমীদের অসন্তোষ সামাল দিতেই আইসিসিকে চিঠি পাঠানোর পথে হাঁটছে বিসিবি—এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। তবে সেই চিঠির পরিসর সীমিত থাকবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নেই।
সব মিলিয়ে, ‘রণং দেহী’ অবস্থান থেকে অনেকটাই পিছিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। আপাতত ম্যাচ সরানোর দাবি না তুলে বাস্তবসম্মত পথেই হাঁটতে চাইছে তারা। যদিও পরিস্থিতি যে আবার বদলাবে না—এমন নিশ্চয়তা দিচ্ছেন না কেউই।







